
চলতি বোরো মৌসুমে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি উঠছে না। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন বোরো চাষিরা। আলু চাষে লোকসানের পর ধানেও ক্ষতির মুখে পড়ায় অনেক কৃষক চরম সংকটে।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে। অথচ ধান কাটতে একজন শ্রমিককে দিনপ্রতি দিতে হচ্ছে ১২০০ টাকা। মাড়াইয়ের মজুরিও বেড়েছে আগে ১৫ কেজি ধান দিলে হতো, এখন দিতে হচ্ছে ২০ কেজি পর্যন্ত।
ফারুক নামের এক কৃষক জানান, ২৪ কাঠা জমির ধান কাটতে ৮ জন শ্রমিক লেগেছে। জনপ্রতি ১২০০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। শ্রমিক সংকট আর অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে,বলেন তিনি।
তোফা নামের আরেক কৃষক সাড়ে ৭ বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে তুলেছেন। বাজারে দাম কম থাকায় ৮৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা চুক্তিভিত্তিক কাজ না করে দৈনিক মজুরিতে কাজ করছেন। ফলে খরচ আরও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে মোকাম থেকে পরিবহন না আসায় ধানের দাম কমছে।
শাকির নামের এক কৃষক তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন,বলেন তিনি।
সরকারি সংগ্রহের দাবি কৃষকদের কৃষকদের অভিযোগ, ধানের দাম কম হলেও বাজারে চালের দাম বেশি। এ অবস্থায় তারা সরকারি হাটে সরাসরি ধান ক্রয় বা নির্ধারিত দামে সংগ্রহ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এভাবে বিক্রি করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, তানোরে এবার সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ। বিলকুমারী বিলসহ চান্দুড়িয়া ব্রিজ ঘাট থেকে মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রিজ ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় আগাম বোরো চাষ হয়েছিল। বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মণ ফলন হচ্ছে। তবে আধাপাকা ধান কাটায় ফলন কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে আলু উত্তোলনের পর মার্চের শুরু থেকে দ্বিতীয় দফায় বোরো চাষ শুরু হয়েছিল উপজেলায়।
বিবার্তা/মোস্তাফিজুর/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]