
বগুড়ার সান্তাহার জংশনের অদূরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহার স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার জংশন স্টেশনের বাগবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী ছিল। সান্তাহার স্টেশনের অদূরে বগারবাড়ী এলাকায় রেললাইনের মেরামতের কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সতর্ক সংকেত দেয়া হয় এবং লাইনের উভয় পাশে লাল পতাকা টাঙানো ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের চালক সিগন্যাল, লাল ব্যানার এবং কর্মীদের হাতের সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে ট্রেনটি মেরামতাধীন লাইনে প্রবেশ করান। এতে বিকট শব্দে পাওয়ার কারসহ নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার ছিল। লাল পতাকার স্থানে গতি কমানো হয়নি। ট্রেনের ছাদে থাকা অনেক যাত্রী নিচে পড়ে আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মহসিন জানান, তাদের হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি আহত যাত্রী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২০ জনের হাত-পা ভাঙা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
সান্তাহার জংশনের অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়েম্যান সোহেল বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল দেয়া ছিল এবং লাল ব্যানারও টাঙানো ছিল। কিন্তু চালক কোনও সতর্ক সংকেত মানেননি বলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত রেললাইন সচল করার কাজ চলছে।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন মেরামত শেষে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]