
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ দলের আরও সাত সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সোমবার (২ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার পলাশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাহীন (৫৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আহতরা হলেন— আলী হোসেন (৩৫), রুপচান আলী (৩৫), সেলিম হোসেন (৩০), শামীম হোসেন (৩০), শাজাহান আলী (৩০), রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও মামুন হোসেন (৩০)। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে একটি পিকআপভ্যানে করে আটজনের দলটি পলাশী গ্রামে প্রবেশ করে। তাদের কাছে ঘরের তালা কাটার যন্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। অপরিচিত লোকজনের সন্দেহজনক চলাফেরা টের পেয়ে স্থানীয়রা মসজিদের মাইক ও চিৎকারের মাধ্যমে অন্যদের সতর্ক করেন। পরে গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে চারদিক থেকে ঘিরে তাদের আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে আটজনই গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহীন নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান ও পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। আহত অন্য সাতজনের মধ্যে ছয়জন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজন ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবার্তা/মোস্তাফিজুর/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]