চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতার ভাই নিহত
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতার ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির হামলায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম হাফিজুর রহমান (৫৫)। এঘটনায় জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।


শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে ইফতারের পর দু’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


গুরুতর আহতরা হলেন জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


জামায়াতের বাকি আহতরা হলেন- সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে মফিজুর রহমান (৪০), একই গ্রামের মৃত গোপাল মণ্ডলের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের মধ্যে দু’জন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।


চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


অন্যদিকে বিএনপির আহতরা হলেন- জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক নেতা মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।


উভয় পক্ষের সংঘর্ষ ও হতাহতের বিষয়টি জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ নিশ্চিত করেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে শনিবার ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল এবং পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা সুটিয়া গ্রামের সোহাগের সঙ্গে সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসীম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরবর্তীতে দুই স্থান ত্যাগ করে। পরে মেহেদীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধাওয়া দেয়। এতে তারা সেখান থেকে সরে যান।


আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর জামায়াতের হাসাদাহ ও পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বাজারে জড়ো হলে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান। তখন হামলাকারীরা হাফিজুর রহমানকে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।


সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।


চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন বলেন, বিএনপির লোকজন আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।


জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন বলেন, হাসাদাহে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


বিবার্তা/আসিম/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com