
নওগাঁয় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ ঘটনায় আহত হয়ে জামায়াতের চারজন এবং বিএনপির একজন কর্মী নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রচারণার অংশ হিসেবে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে যান। সেখানে জামায়াতের কর্মী শহীদ মোল্লার বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে আ স ম সায়েমসহ কর্মী-সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন। এসময় গোপাই গ্রামের বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করে।
জামায়াতের সমর্থকরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। ঘটনার খবর পেয়ে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘরবন্দি করে রাখেন। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় আহত বিএনপি কর্মী রাকিব হাসান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মীরা খাবারের রান্নাবান্নার আয়োজন করে। আমরা দুই তিনজন রান্নার ভিডিও করতে গেলে তারা আমাদেরকে বাধা দেয়। পরে জামায়াতের ৫০-৬০ জন এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।’
আহত জামায়াত কর্মী হাসান প্রামাণিক বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী প্রচারণা শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসময় পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজন ছেলে বাড়ির আশেপাশে ভিডিও করে। তারা দাবি করে আমরা নাকি খাবারের আয়োজন করেছি। কিন্তু ওখানে কোনো খাবারের আয়োজন ছিল না। তারা এসব বলে পরিবেশ উত্তপ্ত করে। আমরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে বিএনপি কর্মীদের নিয়ে আসে। তখন তারা পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, ‘গণসংযোগ শেষে বিকেলে প্রার্থী সায়েম ভাই একটি বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। এসময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাইপ নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলায় আমাদের আটজন কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জামায়াতের লোকেরা হামলা করে আমাদের দুজনকে আহত করাসহ মোবাইল ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের ছেলেদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা জানতে পারি।’
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে যারমতো ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]