
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল জন নাইট স্মিথ (এম.জে.কে. স্মিথ) ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে স্মিথ ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০টি টেস্ট খেলেন, যার মধ্যে ২৫টি ম্যাচেই তিনি অধিনায়কত্ব করেন। লাল বলের ক্যারিয়ারে এই ডানহাতি ব্যাটার ৩১.৬৩ গড়ে ২,২৭৮ রান করেন, যেখানে ছিল ৩টি সেঞ্চুরি এবং ১১টি ফিফটি। ১৯৭৬ সালে তিনি ক্রিকেটে অবদানের জন্য অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) সম্মাননা পান।
স্মিথ ছিলেন কাউন্টি দল ওয়ারউইকশায়ারের দীর্ঘদিনের স্তম্ভ। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর কাউন্টি দলটির অধিনায়ক ছিলেন। এর মধ্যে সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন ১৯৫৯ সালে, যখন তিনি ক্লাবের রেকর্ড ২,৪১৭ রান করেন এবং পরের বছর উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন।
সব মিলিয়ে তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬৩৭ ম্যাচে ৩৯,৮৩২ রান করেন, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে ১৮তম।
খেলোয়াড় জীবনে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং খুবই জনপ্রিয় একজন অধিনায়ক। সেই সময়ের 'জেন্টলম্যান অ্যামেচার' সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবেও তাকে দেখা হতো, যেখানে অপেশাদার ও পেশাদার ক্রিকেটাররা একসঙ্গে খেলতেন।
তিনি ছিলেন বিরল একজন 'দ্বৈত আন্তর্জাতিক' ক্রীড়াবিদও। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফ্লাই-হাফ হিসেবে রাগবি খেলেছেন এবং ১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল রাগবি ইউনিয়ন দলের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে একবার খেলেছেন।
অবসরের পরও তিনি ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যাচ রেফারি, ওয়ারউইকশায়ারের চেয়ারম্যান এবং ইংল্যান্ড ট্যুর ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে ১৯৯৪–৯৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সফরও ছিল।
মাইক আথারটন এবং জিওফ্রে বয়কটসহ অনেকেই তাকে একজন শান্ত, হাসিখুশি এবং ক্রিকেট-প্রেমী মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি চাপের মাঝেও খেলাটিকে উপভোগ করার কথা মনে করিয়ে দিতেন।
তার মৃত্যুতে ইসিবি এবং কাউন্টি ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এজবাস্টনে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নীরবতা পালন করে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]