এবার যে দেশে মাত্র আড়াই ঘণ্টা রোজা
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪২
এবার যে দেশে মাত্র আড়াই ঘণ্টা রোজা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রথম রোজার সময় ছিল ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। রোজার এ সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। রোজার এ
উপবাস থাকার এই সময়কাল পৃথিবীর সব স্থানে একই নয়। কোথাও কম বেশি। তবে এবারের সবচেয় কম সময় মাত্র আড়াই ঘণ্টা।


প্রতিবছর রমজান মাস আগের বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে শুরু হয়। এর কারণ ইসলামি ক্যালেন্ডার চন্দ্রনির্ভর হিজরি বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে মাসগুলো ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। এই বার্ষিক পরিবর্তন সরাসরি রোজার সময়কাল এবং পবিত্র মাসে দিনের আলোর সময় পরিবর্তনের উপর প্রভাব ফেলে। আর দেশ ভেদে রোজার সময় ভিন্ন হয় মূলত ভূগোল এবং অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে।


বর্তমানে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলছে। ফলে দিনের সময় দীর্ঘ হওয়ায় এখানে রোজার সময়ও বেশি হয়, যা শীতকালের তুলনায় দীর্ঘতর। উল্টোভাবে, উত্তর গোলার্ধে এখন শীত, তাই এখানে রোজার সময়কাল সেই অঞ্চলে রমজান গ্রীষ্মে পড়লে যে সময় লাগত, তার তুলনায় কম।


এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দিনের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হয়—ভূ-মধ্যরেখা থেকে কোনো স্থান যত দূরে, গ্রীষ্মে দিন তত লম্বা এবং শীতে রাত তত বড় হয়।


উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ল্যাটিন আমেরিকার দেশ চিলির পুয়ের্তো উইলিয়ামস—যা প্রায়ই বিশ্বের সর্বদক্ষিণের শহর হিসেবে বিবেচিত—সেখানে এবার রমজানের শুরুতে প্রায় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে।


কিন্তু নরওয়ের লংইয়ারবিয়েন—যা সাধারণত বিশ্বের সর্বউত্তরের শহর বা স্থায়ী বসতি হিসেবে বিবেচিত—সেখানে রমজানের শুরুর সময় রোজা রাখতে হবে আনুমানিক সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, কেবল আড়াই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় রোজা রাখতে হবে।


দিন বড় হতে থাকলে রমজানের শেষ দিনে সেখানে রোজার সময় দাঁড়াবে সাড়ে ১২ ঘণ্টা। তবে চরম ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলমানরা প্রায়ই মক্কার সময় অনুসরণ করেন, যাতে ইফতার বা সেহরির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া বা রোজা পালন করা কঠিন হয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি এড়ানো যায়।


বিশ্বের উত্তর গোলার্ধে রমজান যখন প্রায় ২১ জুনের কাছাকাছি পড়ে তখন সবচেয়ে দীর্ঘ রোজার সময় হয়, আর যখন ২১ ডিসেম্বরের কাছাকাছি পড়ে তখন সবচেয়ে ছোট সময়ের রোজা হয়।


দক্ষিণ গোলার্ধে এর উল্টোটি ঘটে—রমজান প্রতিবছর ডিসেম্বরের দিকে এগোতে থাকলে রোজার সময় দীর্ঘতর হয়, আর জুনের দিকে এগোলে সময় কমতে থাকে।


বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা কোন কোন সময়ে রোজা রাখবেন?
আরব বিশ্বের বহু অঞ্চলে রোজার সময় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে থাকবে, যা ২০২৬ সালের রমজানকে সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত মধ্যম-দৈর্ঘ্যের রোজার মৌসুম করে তুলছে।


পবিত্র নগরী মক্কায় রমজানের শুরুতে প্রায় সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে রোজা শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শেষ হবে, অর্থাৎ সাড়ে ১১ ঘণ্টার মতো রোজা রাকতে হবে। মাসের শেষে এ সময় আরও আধ ঘণ্টা বাড়বে।


দক্ষিণ গোলার্ধের বড় বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলমানদের রোজার সময় অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হবে।


উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে রমজানের শুরুতে রোজা রাখতে হবে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও রমজান প্রায় একই দৈর্ঘ্যের রোজার সময় দিয়ে শুরু হবে। উভয় শহরেই পবিত্র মাসের শেষে রোজার সময় প্রায় এক ঘণ্টা কমে যাবে। কারণ সে সময় দক্ষিণ গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, ফলে দিনের আলোও কম থাকে।


তবে সর্বউত্তর অঞ্চলে রোজার সময় মাসজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে। উদাহরণ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ রমজানের শুরুতে রোজার সময় থাকবে প্রায় ৯ ঘণ্টা, যা মাসের শেষে বেড়ে ১২ ঘণ্টারও বেশি হবে।


এ বছর রোজার সময়টাকে বেশ সহজ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ রমজান জুন বা জুলাইয়ে পড়লে উচ্চ অক্ষাংশের অনেক অঞ্চলে দিনের আলোর সময় নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। নরওয়ে, রাশিয়া ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু অংশে রমজান দীর্ঘ গ্রীষ্মের দিনে পড়লে মুসলমানদের প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা রোজা রাখতে হতে পারে।


উত্তর গোলার্ধে এ বছর রোজার সময় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হবে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে আরও কমতে থাকবে। ওই বছর রমজান শীতকালে বা ডিসেম্বরে পড়বে। আর দক্ষিণ গোলার্ধে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর রোজার সময় বাড়তে থাকবে।


এদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রথম রোজায় সাহ্‌রির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৩ মিনিট। এদিন ইফতার হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। অর্থাৎ প্রথম দিন ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট রোজা রাখতে হবে। তবে মাসজুড়ে এ সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে।


এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এশিয়ার দেশগুলোর বাসিন্দাদের ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে ১৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত রোজা রাখতে হবে, যা ধীরে ধীরে আরও বাড়বে।


প্রসঙ্গত, মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মাস। রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এই তিন অংশে বিভক্ত এই মাস। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যেকোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত।


ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন সাত থেকে ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। রোজা শেষে পালিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com