
ঘুম কেবল শরীরের বিশ্রামের সময় নয়; এটি মানুষের আবেগীয় ভারসাম্য, বিপাক প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে তা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণ হতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সতেজ অনুভব না করা, শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ বা হুটহাট মেজাজ পরিবর্তন হওয়া মূলত ঘুমের ব্যাঘাতের প্রাথমিক লক্ষণ। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ঘনঘন সংক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মানুষের শরীরে একটি বিশেষ ‘রেগুলেটরি সেন্টার’ বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে, যা দিন ও রাতের চক্রের সঙ্গে আমাদের জৈবিক ছন্দের সমন্বয় করে। যখন এই সমন্বয়ে বিঘ্ন ঘটে, তখন তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের আবেগ এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর।
মানুষের ঘুমের ধরণ সাধারণত দুই প্রকারের হয়-
মর্নিং টাইপ: যারা ভোরে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠেন এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমান।
ইভিনিং টাইপ: যারা দেরিতে ঘুমান এবং রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উভয় অভ্যাসই স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা যায়। তবে কোনো কাজ বা বিশেষ কারণ ছাড়াই নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো স্লিপ ডিসঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
সমাধানের পথ
দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যায় ভুগলে প্রথমে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা অতি সংবেদনশীলতার মতো মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।
সঠিক ‘স্লিপ হাইজিন’ বা ঘুমের পরিবেশ ও নিয়ম বজায় রাখা।
বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত পরামর্শ হল—শরীরের সংকেতগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ স্থিতিশীল মানসিক অবস্থা এবং সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হল পর্যাপ্ত ঘুম।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]