
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযানে আটককের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
জোহরান মামদানি বলেন, ভেনেজুয়েলার সরকারের পতন ঘটানোর একতরফা প্রয়াস শুধু ভেনেজুয়েলাতেই নয়, নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত ভেনেজুয়েলানদের জন্যও বিপজ্জনক।
মেয়র জানান, তিনি নিজেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে এই অভিযানের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে মাদুরোকে আটকের বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং ভেনেজুয়েলার মতো একটি সার্বভৌম দেশের ওপর একতরফা হামলার বিরোধিতা করেছেন। তবে ট্রাম্প কী জবাব দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই ঘটনা ঘটেছে মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার মাত্র দুই দিন পর। মামদানি জানান, শনিবার (৩ জানুয়ারি) প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করার বিষয়টি সম্পর্কে ব্রিফিং পান তিনি। তাকে জানানো হয়, তাদের (মাদুরো ও তার স্ত্রী) বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে মামলা হয়েছে এবং ফেডারেল হেফাজতে রেখে নিউইয়র্কে আনা হচ্ছে।
মামদানি স্পষ্ট করে বলেন, একটি স্বাধীন দেশের ওপর একতরফা হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন-দুটোরই লঙ্ঘন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র বিদেশিদের নয়, বরং এটি নিউইয়র্কের ভেনেজুয়েলানদেরও সরাসরি প্রভাবিত করছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য তাদের নিরাপত্তা এবং নিউইয়র্কের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন অনুসারে নির্দেশনা জারি করব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসে জড়িত থাকা, বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র, ভারী অস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার পরিকল্পনা। বন্ডির দাবি, মার্কিন আদালতেই তাদের বিচার হবে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই অভিযানের আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যদিও মাদুরো একজন ‘অবৈধ স্বৈরশাসক’ যিনি ভেনেজুয়েলা জনগণের ওপর অনেক অত্যাচার করেছেন, তবুও কোনো প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা সংবিধান লঙ্ঘন।
কৃষ্ণমূর্তির মতে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপে মার্কিন জনগণ এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছিল না। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনকে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বিপদ ডেকে আনবে।’
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ঘটনা এখন শুধু দুই দেশের বিষয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। এতে শুধু রাজনৈতিক সম্পর্কই নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক শক্তি ভারসাম্যের উপরও এর প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]