
শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নীতিনির্ধারণে নারীদের শুধু পর্যবেক্ষক বা ভিকটিম নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) ও ইউএন উইমেনের বক্তারা। তারা তৃণমূল নারীদের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা, ঝুঁকি ও কণ্ঠস্বরকে জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রে আনার তাগিদ দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল লেক ক্যাসলে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) অ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন ও স্থানীয়করণ সম্পর্কিত অর্জিত অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, নারীকে শুধু সংঘাতের শিকার হিসেবে না দেখে অর্থবহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। এর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষায়িত প্রভাব নারীদের জীবন ও নিরাপত্তাকে গভীরভাবে বিঘ্নিত করছে। ডব্লিউপিএস বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসার এই সময়ে স্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজস্ব নীতি, অর্থায়ন ও কৌশল প্রয়োজন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ নারী পুলিশ নেটওয়ার্কের সদস্য এবং এআইডব্লিইপি-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শামিমা পারভীন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে বলেই পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক হিসেবে নারীরা নিয়োগ পাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইং এর সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আরিকুজ্জামান তিয়াশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের যুগে ডব্লিউপিএস অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে লক্ষ্যভিত্তিক কাজ বাড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডাব-এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম জসিমউদ্দিন স্থানীয় পর্যায়ে কাজের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে ‘রাজনৈতিক মালিকানা’ ও সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল-এর শান্তি, সংঘর্ষ ও মানবাধিকার বিভাগের চেয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিলুফার সুলতানা (পিএসসি) প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণ ও নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেন।
বিএনপিএস-এর পরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় সংলাপে উপপরিচালক নাসরিন বেগম অ্যাজেন্ডাভিত্তিক স্থানীয় উদ্যোগের অর্জন, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্যে শাহনাজ সুমী জানান, ডব্লিউপিএস বাস্তবায়নে বিএনপিএস-এর নেটওয়ার্কের আওতায় ৬৪টি সংস্থা কাজ করছে। বরগুনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজারসহ ১০টি জেলায় সংলাপ ও তদারকি চলছে।
জাতীয় কর্মপরিকল্পনা স্থানীয়করণের অর্জন তুলে ধরে নাসরীন বেগম জানান, জাতিসংঘের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের চার স্তম্ভ অংশগ্রহণ, প্রতিরোধ, সুরক্ষা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ভিত্তিতে ২০টি নারী সংগঠনের মাধ্যমে ২০টি স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে ৬৪টি সিএসওর সক্ষমতা উন্নয়ন, ২৪০ জন প্রতিনিধিকে প্রশিক্ষণ এবং ৪০১ জন স্টেকহোল্ডারকে নীতি অ্যাডভোকেসিতে যুক্ত করা হয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, পার্বত্য ও হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট ও স্থানীয় সংঘাতকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে না দেখে নারী-কিশোরীদের সুরক্ষা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ডব্লিউপিএস নীতিমালার আলোকে দেখতে হবে। আর পাহাড়ি নারীদের শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে শান্তি ও সামাজিক সংহতির সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংলাপে নারী ও মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ, গবেষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নারীদের সংখ্যাগত প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের বদলে শাসনব্যবস্থায় অর্থবহ অংশগ্রহণ, ডাটা গ্যাপ দূর করে নিয়মিত মনিটরিং ও ইভালুয়েশন নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিবার্তা/মন্টি/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]