
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ইস্যুতে ‘আজই’ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবর (২০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদক মারিয়া বার্টিরোমোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি। তবে বার্টিরোমোর সঙ্গে এই ফোনালাপ ঠিক কখন হয়েছে তা এখন অস্পষ্ট।
এছাড়া ট্রাম্প কোন সময়ের কথা বুঝিয়েছেন সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে খোলাসা করা হয়নি। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি সই না হয়, তাহলে তিনি ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেবেন।
যদিও ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় চুক্তি সই কিংবা প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ইরান। তবে পাকিস্তানের একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছে, তেহরান দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী হলেও এ ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের চুক্তির দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি ইরান। ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেনি দেশটি। তবে পাকিস্তানি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, তেহরান ‘দ্বিতীয় দফা বৈঠকের জন্য ইচ্ছুক’, কিন্তু এ বিষয়ে ‘এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি’।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে তিনি নিজে ইরানি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক। অনিশ্চয়তা থাকলেও আলোচনা ভেস্তে যাবে না বলেই বিশ্বাস তার।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমাদের আলোচনা হওয়ার কথা। তাই আমি ধরে নিচ্ছি, এই মুহূর্তে কেউ কোনো ছলচাতুরি করছে না।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের পথে রয়েছে।
সুযোগ পেলে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের ব্যাপারে নিজের ‘উন্মুক্ত মনোভাবের’ ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। যদি তারা দেখা করতে চায়, এবং আমাদেরও কিছু অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি আছেন। ফলে তাদের সঙ্গে দেখা করতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয় এবং হুমকির মুখে দৃঢ় থাকার পাশাপাশি উত্তেজনা কমাতে যুক্তিসঙ্গত ও সব ধরনের কূটনৈতিক উপায় ব্যবহার করা উচিত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস বা আইন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন পেজেশকিয়ান। খবর বিবিসি’র।
তিনি বলেন, ইরানি জনগণকে ‘অবশ্যই দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত রাখতে হবে’।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ভুল তথ্য বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি সমস্যা সমাধানে তো কোনো কাজে আসেই না, উল্টো জনগণের আস্থা নষ্ট করে।’
তার ভাষ্য, ‘সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই সততার সাথে জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।’
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]