ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান শুরু
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান শুরু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। এ উপলক্ষে ক্যাম্পেইন কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও অবহিতকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।


সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও অবহিতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়।


এসময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যায়াম ল্যাবরোটারি স্কুলে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।


জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩২ জন শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দিতে টিকা প্রদান করা হবে। এ জন্য জেলায় ১১টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং ২ হাজার ৩৮৮টি আউটরিচ কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।


স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা আগামী ২ মে পর্যন্ত চলবে ।


জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া জানান, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নে ৩১২ জন সুপারভাইজার, ৬২৪ জন ভ্যাকসিনেটর এবং ১ হাজার ২৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছেও টিকাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দেড় লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব টিকা শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


হাম সংক্রান্ত মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে তারা মূলত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।


কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জেলা প্রতিনিধি ডা. শুভ রায়, ডা. মাহমুদুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বীজন, সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরীফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


উল্লেখ্য, গত এক মাসে জেলায় ১০৬ জন হামের লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে ৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৭ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এবং মোট ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com