
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার মাঝে ইসরায়েল এবং ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তবে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের ছোড়া ‘ভারী ক্ষেপণাস্ত্র’ সরাসরি ইসরায়েলের বাণিজ্যিক শহর তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরজুড়ে অবিরাম অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যাচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির পরোক্ষ স্বীকারোক্তিকে এই হামলার গভীর প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, শুধু ইসরায়েল নয়, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত 'হারির' বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থল 'আলি আল সালেম' ও 'আরিফজান' ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই সুপরিকল্পিত হামলায় ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া না গেলেও, বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলা পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]