ইরানে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, হস্তক্ষেপের হুমকি ট্রাম্পের
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০০
ইরানে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, হস্তক্ষেপের হুমকি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রাম্প যদি হস্তক্ষেপ করেন, তবে তাঁকে ‘সাবধান’ থাকতে হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়েও তাঁকে সতর্ক করেন।


গতকাল শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হন। গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, যা তাদের রীতি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’


জবাবে খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি কিছুক্ষণ পরই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপ এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে। তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত– এ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের অর্থ হবে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা ও মার্কিন স্বার্থ ধ্বংস করা।’


ট্রাম্প পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে বিষয়ে বলেননি। গত জুনে ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এ হামলা তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারে একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রাম্প যদি হস্তক্ষেপ করেন, তবে তাঁকে ‘সাবধান’ থাকতে হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়েও তাঁকে সতর্ক করেন।


গতকাল শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হন। গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে ও সহিংসভাবে হত্যা করে, যা তাদের রীতি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’


জবাবে খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি কিছুক্ষণ পরই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপ এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে। তিনি লেখেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত– এ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের অর্থ হবে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা ও মার্কিন স্বার্থ ধ্বংস করা।’


ট্রাম্প পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে বিষয়ে বলেননি। গত জুনে ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এ হামলা তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কাতারে একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে


ইরানে গত বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে গড়ায় বিক্ষোভ। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স ও মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লর্ডেগানে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। আজনা শহরে তিনজন ও কৌহদাশতে একজন নিহত হয়েছেন। কৌহদাশতে নিহত ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। সামাজিক মাধ্যমে ফুটেজে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় গাড়িতে আগুন লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে।


কৌহদাশতের প্রসিকিউটরের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা তাসনিম গত বৃহস্পতিবার জানায়, সেখানে বিক্ষোভকালে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তেহরান প্রদেশের মালার্ড এলাকায় কর্তৃপক্ষ ‘জনসাধারণের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার’ জন্য ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই এলাকার কর্মকর্তা মনসুর সালেকির বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘নাগরিকদের প্রতিবাদের আইনি অধিকারের অপব্যবহার করছে’। তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অন্য এলাকা থেকে এসেছেন।


গত রোববার তেহরানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্যের তীব্র পতনের কারণে ক্ষুব্ধ দোকানদাররা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে জড়িয়ে পড়েন। বিক্ষোভ ক্রমেই বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শুনবেন। তবে দেশটির প্রসিকিউটর-জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে দিয়েছেন, অস্থিতিশীলতা তৈরির যে কোনো প্রচেষ্টা ‘নির্ধারক প্রতিক্রিয়া’ পাবে।


জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ


তেহরান থেকে আলজাজিরার তৌহিদ আসাদি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্দশা ইরানিদের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘এসব বিক্ষোভ প্রথমে বিক্ষিপ্তভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে তা ছোট শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।’ বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ মূলত ছোট শহরগুলোতেই ঘটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভে এ জনসাধারণের মনোভাব ও অসন্তোষ দেখতে পাচ্ছি।’


বিবার্তা/এসএস

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com