
বৈশাখকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামে বসা দুই দিনের শুঁটকির মেলায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলায় আশপাশের সাত-আটটি জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা অংশ নেন। তিন শতাধিক বিক্রেতা এবং হাজারো ক্রেতার সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শতাব্দীর প্রাচীন এই মেলার প্রচলন প্রায় তিন থেকে চার'শ বছর আগে। প্রথম দিকে পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি বেচাকেনা হলেও বর্তমানে নগদ টাকায় লেনদেন হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের মেলায় দুই থেকে তিন শতাধিক দোকান বসে। দুই দিনে মোট বেচাকেনা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছের শুঁটকির পাশাপাশি সামুদ্রিক শুঁটকিও পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বোয়াল মাছের শুঁটকি ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, কাইক্কা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাঁচকি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, শোল ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং বাইম মাছের শুঁটকি ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।
সুনামগঞ্জ থেকে শুঁটকি নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সুবল দাস বলেন, বোয়াল, আইড়, শোল, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি এনেছি। চাহিদা ভালো। মেলা শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩৫ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি করেছি।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই মেলার জন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন বলে জানান তিনি।
নাসিরনগরের জেঠাগ্রাম এলাকার নাফিজা চৌধুরী জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই মেলায় আসছেন। আগে শাকসবজি ও কৃষিপণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি কেনাবেচা হলেও এখন তা টাকার মাধ্যমেই হয়।
ক্রেতা মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, শুনেছি এই মেলা চার'শ বছরের পুরনো। আগে পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি কেনা হতো, এখন পুরোপুরি টাকার লেনদেন।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ওহাব আলী বলেন, এটি নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এতে অংশ নেন। দুই দিনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]