একটি সুন্দর ভোরের অপেক্ষায়
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫২
একটি সুন্দর ভোরের অপেক্ষায়
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
প্রিন্ট অ-অ+

এখন হেমন্তকাল হলেও শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। সামনে আরো বাড়বে। গরীব মানুষজন এবং যেসকল মানুষ রাস্তায় রাতযাপন করেন তারা খুব ভালোভাবে বুঝেন শীত কত ভয়ানক।


তবে এবারের শীতটা তাদের হয়তো 'ভালোই' কাটবে। কেননা এ বছর যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে শীতের মৌসুম, তাই বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠনের পাশাপাশি অনেক নেতাও কাঁথা-কম্বল বিতরণ করবেন।


নির্বাচন কিংবা অন্য যে-কোনো উপলক্ষেই হোক, দরিদ্র মানুষকে কম্বল দান নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ। তবে প্রশ্ন হলো, একটি কম্বল দেয়াই কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান?


কেন আমরা মানুষকে কম্বল দেই? দেই কারণ তারা অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। কিন্তু আমরা যদি এমন একটি কিছু করি যাতে তারা নিজেরাই কাঁথা-কম্বল কিনে গায়ে জড়াতে পারবেন, নিজেদের আহারের ব্যবস্থা করতে পারবেন, নিজেদের সন্তানদের স্কুল-কলেজের খরচ বহন করতে পারবেন - তাহলে কী করতে হবে?


আমি বলব, আপনি কম্বল এ বছর না দিয়ে এমন কিছুর ব্যবস্থা করুন, যাতে স্থায়ী একটি সমাধান হয়।


এ জন্য কি করতে হবে? সকল দরিদ্রকে সাহায্য করার সামর্থ্য আপনার নেই? আপনি আপনার এলাকার একেবারে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাছাই করুন। তার ভিতর থেকে আপনি যাদের পারেন আপনার এলাকায় যে জিনিস মানুষ বেশি কিনে এমন একটি পণ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিন। হতে পারে তা বাদামের ব্যবসা, পানের ব্যবসা, ঝালমুড়ির ব্যবসা, চা বিক্রির ব্যবসা, সবজি বিক্রির ব্যবসা, গরম চানাচুর বিক্রির ব্যবসা। এসব ব্যবসার ব্যবস্থা করতে বেশি টাকারও প্রয়োজন হবে না, প্রায় একটি কম্বলের দামই যাবে, হাজারখানেক টাকার ভিতরেই যা সম্ভব হবে।


একবার আপনি যদি পদক্ষেপ নেন, দেখবেন অন্যরাও আপনার দেখাদেখি এগিয়ে আসবে। আর একটি কাজ করবেন - যাদের সহযোগিতা করবেন তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিবেন ৬ মাস কিংবা এক বছরের জন্য। এ সময় শেষ হলে যাকে সাহায্য করা হবে তারও একজন অসহায় ব্যক্তিকে সহযোগিতা করতে হবে।


আর একটি বিষয় মনে রাখবেন, কাউকে হাতে নগদ টাকা দিবেন না, দিলে খরচ করে ফেলবে। যে ব্যবসাগুলোর কথা বললাম সে রকম যে কোনো একটি ব্যবসার জিনিসপত্র কিনে দিবেন। আর ঐ চুক্তিপত্রটি নিবেন, যাতে কাজ করতে বাধ্য থাকেন।


আমরা যারা শিক্ষার্থী তারা ও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারি। প্রত্যেকে যে যা পারি ২০, ৫০, ১০০, ২০০ টাকা দিয়ে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।


আসুন, আমরা সবাই দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বদলে দিতে পারে সমাজ, দেশ।


এমন একটি সুন্দর ভোরের অপেক্ষায় রইলাম তবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/হুমায়ুন/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com