গ্রাম থাক গ্রামের মতো
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৫
গ্রাম থাক গ্রামের মতো
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ
প্রিন্ট অ-অ+

গত ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় উদযাপিত হয়ে গেল নবান্ন উৎসব। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নবান্ন কথন, নবান্ন শোভাযাত্রা, পটগান, সংযাত্রা, লাঠিখেলা, মহুয়ার পালা ইত্যাদি অনেক গ্রামীণ আবহ ছিল। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার।


শিশুদের আঁকা ছবিগুলোতেও দেখলাম, তাদের ছোট্ট হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার চিত্র। দেখে খুব সহজেই বুঝতে পারা যায়, শহরবাসী এ শিশুদেরও রয়েছে গ্রামের প্রতি অপার টান।


আর টান থাকবে না-ই বা কেন? শহরে আছে ইটপাথরের সারি সারি দালান, আছে অসংখ্য যানবাহন আর তার কানফাটানো শব্দ, আছে দূষিত বায়ু। এর মধ্যেই যে শিশুটিকে বসবাস করতে হয়, গ্রামের প্রতি তার টান তো থাকবেই।


সে কেন এ শহরে থাকতে চাইবে? এখানে নেই কোনো বর্জ্যহীন, স্বচ্ছতোয়া নদী, নেই কোনো জলটলমল পুকুর। এখানে না আছে সবুজের সমারোহ, না আছে ধানক্ষেত, না আছে কৃষকের বিচিত্র কর্ম দেখার সুযোগ, না আছে গরু-ছাগল-মহিষের মাঠে-মাঠে ঘাস খাওয়ার দৃশ্য, না আছে রাখালের মিষ্টি বাঁশির সুর, পুকুরে-খালে নেমে শাপলা তোলার সুযোগ, নদীর অপর পাশের গ্রাম, নদীতে বয়ে চলা নৌকা আর জেলেদের মাছ ধরা দেখার সুযোগ, কাদায় গড়াগড়ি খাওয়ার, ছিপ হাতে নিয়ে মাছ ধরার,মাঠে নেমে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করার সুযোগ, পায়ের নিচে পিষে কলাই মলার, মাঠ থেকে কাঁচা কলাই এনে কলাই আর চাল একসাথে ভেজে খাওয়া, কাদামাটিতে ইচ্ছে করে আছাড় খাওয়ার সুযোগ।


কী আছে এই শহরে? এখানে কি আছে বউছি, গোল্লাছুট, কিত কিত, ঝামুর ঝুমুর, পালাপালি, ইটকিরি-মিটকিরি, পাকা কাঁঠাল খেলা, অস্ট্রা, চার চার, রাজা কোর্তাল, চারাপাতি, মার্বেল, খোলা মাঠে ক্রিকেট-ফুটবল,কাবাডি খেলার সুযোগ?


এরকম আরো কতো 'নাই'-এর রাজ্য এ শহর! তাই তো আমরা ফিরে যেতে চাই গ্রামে, ফিরে পেতে চাই পুরনো দিনের গ্রাম।


কিন্তু সেই ফেলে আসা দিনের গ্রাম কি আর আছে? দিন দিন বদলে যাচ্ছে গ্রামের পরিবেশও। নিধন হচ্ছে গাছপালা, গ্রাম হারাচ্ছে তার ফুসফুস ও সৌন্দর্য। এখন আবার নেয়া হচ্ছে গ্রামকে শহর বানানোর পরিকল্পনা। কিন্তু আমরা গ্রামের পরিবেশে আজীবন থাকতে চাই। গ্রামের সৌন্দর্য বিলীন হোক - তা কখনো চাই না। কলকারখানা যেন আমাদের গ্রামীণ পরিবেশকে ধ্বংস না করে। বরং অন্য উপায়ে গ্রামীণ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে যেসব জিনিস উৎপাদন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব, সে ব্যবস্থা করা হোক - এটাই কাম্য।


লেখক: শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/কামরুল/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com