আসন্ন নির্বাচন ও কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৫১
আসন্ন নির্বাচন ও কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা
উল্লাস চৌধুরী
উল্লাস চৌধুরী
প্রিন্ট অ-অ+

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করেন। ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফলাফল জনমনে এনে দেয় স্বস্তি ও প্রশান্তি।


বর্তমানে আমাদের দেশে চলছে নির্বাচনী হাওয়া। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে চলছে মনোনয়নপত্র বিক্রয় ও জমা নেওয়ার ধুম। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন ৩০ ডিসেম্বর।


নানা কারণে আসন্ন নির্বাচন আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


প্রথমত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তাদের নেতাকর্মীরা বিজয়ী দলকে মানসিকভাবে মেনে নেয়নি। এবার তারা নির্বাচনমুখী হওয়ায় তাদের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের বিরোধী দল ও ব্যক্তিসর্বস্ব পার্টিগুলো গড়ে তুলেছে ঐক্যফ্রন্ট। সরকারের সাথে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ চলেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচকতার বার্তা এনে দিয়েছে। এবার সবগুলো রাজনৈতিক জোট ও দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠবে বলে আশা করা যায়।


দ্বিতীয়ত, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধানের বৈধতা অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ডঃ কামাল হোসেন সংবিধানপ্রণেতা হওয়ায় উভয় পক্ষের দরকষাকষি থেকে প্রাপ্ত ফলাফল জনগণের পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা পাবে।


তৃতীয়ত, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সংসদ বজায় রেখে নির্বাচনের রেওয়াজ রয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমাদের দেশেও একই নিয়ম চালু হয়েছে। ফলে, সংসদ বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধনে মাইলফলক হতে পারে।


চতুর্থত, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফলভোগী বাংলাদেশ তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে উন্নত দেশের কাতারে যাবার স্বপ্ন দেখছে। দুরদর্শী ও সুদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে।


আমাদের দেশের দরিদ্রতার হার অনেক কমে আসা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি লক্ষণীয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলে জনজীবনে অস্থিরতা নেমে এলে জনগণ তা ভালোভাবে নেয় না। তাই জ্বালাও, পোড়াও, আর আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি নয় জনগন চায় আলোচনা, সংলাপ, সমঝোতার মাধ্যমে দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে। ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাত একত্র হলে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে উঠতে আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।


লেখক: সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।


বিবার্তা/কামরুল/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com