কোটা সংস্কার আন্দোলন নাকি মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধী আন্দোলন?
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৯
কোটা সংস্কার আন্দোলন নাকি মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধী আন্দোলন?
সাদিয়া হুমায়রা
প্রিন্ট অ-অ+

বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। প্রায় তিন মাসব্যাপী এ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আপাতদৃষ্টিতে কোটা আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে হলেও বিষয়টির আসলে মীমাংসা হয়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে যে কোনো সময় ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠতে পারে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থকেরা। একটি দৈনিক পত্রিকায় ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘৪০ জন কোটা আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার’ জাতীয় সংবাদ কিংবা ফেসবুকে নতুন গ্রুপ খুলে কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ, নুরুদের সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের সেই বার্তাই দিয়ে যায়।


প্রথমেই একটি বিষয় পরিস্কার করে নেয়া প্রয়োজন যে আমি কোটার পক্ষের মানুষ। মেধা যার চাকরি তার কথাটায় আবেগ আছে কিন্তু মানবিকতা নেই। প্রকৃত মেধাবীরা সমাজের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিতদের পায়ে দলে নয়, বরং তাদের সাথে নিয়ে দেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাবে এমনটাই কাম্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রকৃত মেধাবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোভাবেই অসম্মান করতে পারে না বলেই আমি আজীবন বিশ্বাস করেছি। তাই যতবার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করতে দেখি, সমাজের অনগ্রসর শ্রেণিকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে দেখি আমার বিস্ময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। মানবতাহীন, দেশপ্রেমহীন ও উদ্ধত শিক্ষার্থীদের মেধাবী বলা যায় কী না বা তারা মেধাবী হলেও ওই মেধা দেশ ও দশের কতটা কাজে লাগবে সেই প্রশ্নটি করা তাই অবান্তর নয়।


সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার ফলে মেধাবীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে – এমন একটি প্রচারণার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলন খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, কোটা আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হয় সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দিকেই কোটা সংস্কার পক্ষের লোকজনের আগ্রহ বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন পোস্ট, বক্তব্য ইত্যাদিতে অন্য সব কোটা নিয়ে যতটা না আপত্তি দেখা গেছে তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা গেছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে। এক্ষেত্রে তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কোটা সংস্কার আন্দোলন কি আসলেই চাকরিপ্রার্থীদের নিরীহ আন্দোলন নাকি এর পেছনে রয়েছে এমন কোনো রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি যা বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মর্মমূলে আঘাত হানতে ওঁৎ পেতে বসে আছে।


মানতে খারাপ লাগলেও সত্যি, কোটা সংস্কার আন্দোলন কোনো নিরীহ ছাত্র আন্দোলন নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন মূলত জামায়াত-শিবিরের মস্তিষ্কপ্রসূত একটি আন্দোলন যার মূল উদ্দেশ্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা। কেন একথা বলছি তার জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুটা একটু দেখা যাক।


যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে না সেই যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীই ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রণীত নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বপ্রথম সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা সংস্কার এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই মোতাবেক নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট জয়ী হওয়ার পর প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব জ্ঞাপন ও আলোচনার সময় জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতা তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি জানান। ২০০২ সালের ৮ জানুয়ারি সেই দাবি জানানো যুদ্ধাপরাধী নিজামী পরে আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হন। এরপর ২০০৩ সালে ৩৩তম বাজেট অধিবেশনে জামায়াতের দুই নেতা যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও যুদ্ধাপরাধী মাওলানা আবদুস সোবহানও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি উত্থাপন করেন ও কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের দাবিতে সম্মতি জানালেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে আর কোটা সংস্কার হয়নি অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএনপি কোটা বাতিল করে আরেকটি বিতর্কের জন্ম দিতে চায়নি।


বিএনপিও যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দেয়ার সাহস করেনি সেখানে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে একই কাজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে দিয়ে করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকে যদি শূণ্য কোটার ঘোষণাও করা হয় তবুও আওয়ামী লীগ দেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অংশটির ভোট কখনোই পাবে না একথা নিশ্চিত। কিন্তু আওয়ামী লীগকে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মাধ্যমে দেশটির মুক্তিযুদ্ধপন্থী অংশটির মধ্যেও আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে সুনিপুণভাবে। কারণ, কোটা আন্দোলনের থিংক ট্যাংকরা জানে, এমনটা করা সম্ভব হলে দেশে স্বাধীতাবিরোধী চক্রের ক্ষমতায় আসার পথ সুপ্রশস্থ হবে।


দীর্ঘদিন ক্ষমতার স্বাদ না পেয়ে বাকা পথে সরকার পতনের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে আবার কোটা আন্দোলনকে সামনে নিয়ে আসে জামায়াত-বিএনপি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে আবার মাঠ উত্তপ্ত করা হয় এবং আবারও প্রমাণিত হয়ে যায়, মুখে মুখে সামগ্রিক কোটা সংস্কারের কথা বললেও তাদের মূল লক্ষ্য আসলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। ২০১৩ সালের আন্দোলনে স্লোগান দেয়া হয় - ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা মানি না মানব না’। চাকরির নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে, এমনকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘোষণা না করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হৈচৈ শুরু করা এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রকৃতিকে আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে এমন স্লোগান ২০১৮ এর কোটা সংস্কার আন্দোলনেও দেখা গেছে। এই আন্দোলনে তথাকথিত মেধাবীরা 'আমি রাজাকার', 'রাজাকারের বাচ্চা আমি, আমার পিতা শেখ মুজিব' গায়ে-পিঠে, প্ল্যাকার্ডে লেখার মতো স্পর্ধা দেখায়।


আসলে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিণত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্থ করার হাতিয়ার হিসেবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে যথেচ্ছ ট্রল হয়েছে। বন্ধুদের আড্ডায় অপমানিত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। অন্যদিকে ঘৃণিত রাজাকার শব্দটির হয়েছে সাধারণীকরণ। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনাকে যোগসূত্রহীন মনে হলেও এই ঘটনাগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৭৫ পরবর্তী একটা সময় ছিল যখন মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে পারতো না। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের এই ঘটনাগুলো সেই অন্ধকার সময়কে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা, এই ঘটনাগুলো সেই অন্ধকার সময়েরই সম্প্রসারণ যা সম্ভব হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর ভর করে।


এছাড়া প্রত্যেকবারই কোটা আন্দোলনকে ঘিরে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ হতে দেখা যায়। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার শোলার পাখি ও টেপা পুতুলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। পরে ২০১৮ সালে ৮ এপ্রিল ঢাবির চারুকলা অনুষদে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্যে সংগৃহীত বিভিন্ন ধরনের বাঁশ ও কাঠ আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীরা একই ঘটনার পুনারবৃত্তি করে। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলন নিছক কোনো ছাত্র আন্দোলন নয়, এর পেছনে রয়েছে অনেক গূঢ় কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা। এবারের কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর গুজব, ছাত্রলীগ নেত্রী পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এমন বাহারি সুপরিকল্পিত গুজবগুলো এই ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করে।


কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভিত্তিই মূলত গড়ে উঠেছে গুজবের ওপর। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়েছে বিভ্রান্তিমূলক একটি তথ্য। সরকারি চাকরিতে দেশের ২% মানুষের জন্য ৫৬% কোটা আর ৯৮% মানুষের জন্য রয়েছে সরকারি চাকরির ৪৪% পদ এমন একটি কথা বেশ প্রচলিত। এই ধরনের তথ্য যে কোনো মানুষকে ক্ষুদ্ধ করতে যথেষ্ট এবং এই ক্ষুদ্ধ মনোভাবই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে টেনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু আসুন দেখি পরিসংখ্যান অনুযায়ী আসলেই এই তথ্যে ভিত্তি আছে কী না। মোটা দাগে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ২০ লাখ ১৬ হাজার, তাদের জন্য বরাদ্দ আছে ১% কোটা। আদিবাসীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৬ হাজার, তাদের জন্য বরাদ্দ আছে আরও ৫% কোটা। নারী কোটা আছে ১০% যার সুবিধাভোগী দেশের ৮ কোটি ৫০ লাখ নারী। ১০% জেলা কোটার সুবিধা পান সব জেলার অধিবাসীরাই। আর বাকি থাকে ২ লাখ মানুষের জন্য ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা যা নিয়ে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ২ লাখের উপাত্তটি আপডেটেড নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের সংখ্যা মোটামুটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, ৯ কোটি মানুষের জন্য ৫৬% কোটা আর ৮ কোটি মানুষের জন্য ৪৪% কোটা। কিন্তু জেনেশুনে ২% মানুষের জন্য ৫৬% কোটা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল। সবচেয়ে বড় কথা, এই হিসাবের বাইরেও আরও কিছু কথা আছে। এই পরিসংখ্যান থেকে কোটাধারীদের চাকরি পাওয়ার বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কোটার সুবিধা পাওয়া তাঁর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ কোটা প্রয়োগ করা হয় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেধা তালিকার ভিত্তিতে। একজন পরীক্ষার্থী সব ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয় আর চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ একটি পরীক্ষায় আড়াই-তিন লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে পাস করা হাজার পাঁচেক শিক্ষার্থী থেকে ৪৪% মেধা কোটায় এবং ৫৬% জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও অন্যান্য কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়ে থাকে। এখন আড়াই-তিন লাখ পরীক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে যারা বিসিএস পাস করে তাদের কাউকেই মেধাহীন বলার উপায় নেই। তাই এদের মধ্যে থেকে কোটায় যারা নিয়োগ পায় তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটাও বাড়াবাড়ি।


এছাড়া বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় এমন নিয়মও চালু করা হয়েছে যে কোটা থেকে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে কোটাহীনদের দ্বারাই শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। এই নিমানুসারে মেধার ভিত্তিতে ৩৩তম বিসিএসে ৭৭.৪০ শতাংশ, ৩৫তম বিসিএসে ৬৭.৬৯ শতাংশ এবং সর্বশেষ ৩৬তম বিসিএসে ৭০.৩৮ শতাংশ ক্যাডার সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছে এবং বাকি ৯০% নন-ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছে। এত কিছুর পর কোটার কারণে জাতি মেধাশূন্য বিসিএস ক্যাডার পাচ্ছে এমন দাবি করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অজ্ঞানতাপ্রসূত।


বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় মেধাবীদের বঞ্চিত করার তেমন কোনো নিদর্শন না দেখা যায়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের সুস্পষ্ট ইন্ধনের বিষয়টিও প্রমাণিত। তারপরও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে কোটা সংস্কার বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। গত জুলাইয়ে গঠিত এই কমিটি সম্প্রতি কোটা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি বিবেচনার জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেহেতু জনগণের দল, বর্তমান সরকারও যেহেতু জনগণের সরকার তাই জনগণের যে কোনো দাবিই তারা পূরণ করতে পারে, মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ অন্যান্য কোটা সংস্কার বা বাতিলের সিদ্ধান্তও আসতে পারে সামনে। কিন্তু যাই করা হোক না কেন, কোটা প্রশ্নে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের যেন কোনোমতেই অসম্মান না করা হয় সে ব্যবস্থা করার দায়িত্বও আওয়ামী লীগ সরকারের। কারণ, আওয়ামী লীগ আর দশটা রাজনৈতিক দলের মতো কেবলই একটি রাজনৈতিক দল নয়। এই দলের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই পৃথিবীর বুকে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। তাই জনমতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি আদর্শিক জায়গায় পরিস্কার থাকাটাও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কাম্য। কোনো আন্দোলন, কোনো দাবি-দাওয়ার সামনেই যেন মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু- এই পবিত্র শব্দগুলোর অবমাননা না হয়, তা আওয়ামী লীগ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।


বিবার্তা/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com