ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির আলোকবর্তিকা
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:০০
ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির আলোকবর্তিকা
মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি
প্রিন্ট অ-অ+

সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ জুলাই উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নতুন এই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেছেন সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বানীকে।


যেহেতু ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই রাব্বানী ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। তার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। জয় বাংলা স্লোগান ধরতে শিখেছিলাম। তখন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের পর্যবেক্ষণ থেকে কিছু দিক আলোকপাত করা প্রয়োজন মনে করছি।


এক.
আমাদের ছাত্ররাজনীতির এক সুবিশাল গৌরবগাথা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বয়স এখন ৭০ বছর। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবদি বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে সর্বদা জাগ্রত ছিল বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠনটি। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল চেহারা কিছুটা ম্লান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগ্যতা ছিল সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। সেকারণেই ২৯ তম সম্মেলনের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজ পর্যবেক্ষণে সম্পন্ন করেন।


মূল কথায় আসা যাক। যদি একজন সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ছাত্ররাজনীতি কেমন হওয়া উচিত? এবং একজন ছাত্রনেতাকে কিরূপে দেখতে চান?


নিঃসন্দেহে উত্তর আসবে, একজন ছাত্রনেতার জনসম্পৃক্ততার কথা। সাধারণ মানুষের চাওয়া সবসময়ই এমন একজন ছাত্রনেতা, যিনি মানবিক হবেন, ইতিবাচক কাজ করবেন, সাধারণ মানুষের বিপদে এগিয়ে যাবেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের মানুষকে তিনি সমান চোখে দেখবেন। অসহায়, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে যিনি আমজনতার অন্তরে পৌছাবেন। নির্দিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হয়েও যিনি হবেন সার্বজনীন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও জনমুখী কাজ হবে তার একমাত্র অস্ত্র।


উপরের সবগুলো বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় খুঁজে পাওয়ার জন্য রাব্বানী ভাইয়ের গত চার-পাঁচ বছরের কার্যক্রমগুলোই যথেষ্ট। তিনি রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সোচ্চার। তেমনি অসুস্থ রোগী থেকে শুরু করে বাস্তুহারা, শীতার্তদের শীতবস্ত্র, বন্যার্তদের ত্রাণ, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, রক্তদান, পথশিশুদের সামাজিক উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের বিবিধ সমস্যার সমাধানে ছিলেন অকৃত্রিম বন্ধু। এ যেন কাজী নজরুলের ভাষায় "মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী; আর হাতে রণতূর্য।"


দুই.


প্রান্তিক থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক কর্মীরা অনুসরণ করার জন্য কেমন নেতা চান? অবশ্যই এমন একজন নেতা, যিনি সর্বস্তরের কর্মীকে ভালবাসবেন, তাদের ইতিবাচক কাজগুলোকে এপ্রিশিয়েট করবেন, ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করবেন, বিপদে পাশে দাঁড়াবেন, যোগ্যদের মূল্যায়ন করবেন।


এখানেও সবার চেয়ে ব্যতিক্রম রাব্বানী ভাই। সকল ধরনের প্রটোকল ভেঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন কর্মীকে বুকে টেনে নেয়ার দৃষ্টান্ত কেবল তাঁরই আছে।


এতদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা বা শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে আমরা জানতাম এমন কেউ, তৃণমূলের একজনের কাছে যার সান্নিধ্য পাওয়া ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখার মতো দুঃসাধ্য। ঢাকার বাইরে থেকে আসা একজন কর্মী তার প্রিয় ছাত্রনেতার সাথে কথা বলার সুযোগ পাবে, নেতার আশির্বাদপুষ্ট হাত তার মাথায় থাকবে - এ যেন পরম আরাধনার বস্তু ছিল। কিন্তু বর্তমান কমিটি ঘোষণার পর থেকে আজ অবদি হাজারো তৃ্ণমূল নেতাকর্মী রাব্বানী ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়েছে। সে হোক অতি সাধারণ একজন কর্মী, তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়া, সবার আগে তাকে প্রায়োরিটি দেয়া - এই ব্যাপারগুলোই উনাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।


তিন.


বাংলাদেশে অধিকাংশ জায়গায় যোগ্যতাকেই প্রধান অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছাত্ররাজনীতিতেও বেশি যোগ্যতা এবং আলোচিত হওয়ার ফল নেতিবাচকই হয়। এতদিন ধরে চলা তেলবাজি আর চামবাজির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির পদলেহনের মাধ্যমে নেতা হওয়ার রেওয়াজ ভেঙ্গে দিয়ে যখন ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিজের পছন্দে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কমিটি দেয়ার মাধ্যমে যোগ্যদের মূল্যায়নের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর একারণেই রাব্বানী ভাইয়ের মতো ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসতে পেরেছেন।


সর্বশেষ.


মেধা, মনন, প্রজ্ঞা, বক্তৃতা, ব্যক্তিত্ব - সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের প্রতি আকাশসম ভালবাসা ও প্রত্যাশা নিয়ে অধীর আগ্রহে বসে আছেন দল মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষ। তার হাত ধরেই ছাত্ররাজনীতিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব। যদিও সেই পথটা একদমই মসৃণ নয়। সংস্কারবিরোধীদের অপতৎপরতা তো আছেই, আবার সামনে জাতীয় নির্বাচন। সুতরাং চিন্তার বাস্তবায়নে রাব্বানী ভাইকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, তিনি পারবেন।


লেখক : সাবেক সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (DUDS)


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com