সরকারের শেষ সময় : প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও সতর্কতা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৮
সরকারের শেষ সময় : প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও সতর্কতা
ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল
ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল
প্রিন্ট অ-অ+

দিন যাচ্ছে আর আমরা ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভিতরে। সবাই আশা করছে বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। বর্তমান সরকারও তা প্রত্যাশা করে। কিন্তু তার আগে দরকার বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ।


অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এবার বিএনপি নির্বাচনে আটঘাট বেঁধেই নামবে। বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রিয় মানুষও তা মনে করে। মুশকিল যা তা হলো বিএনপি বিজয় নিশ্চিত করে তবেই নির্বাচনের মাঠে নামতে চায়। মানে দাঁড়ায়, যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে আছি ভাই, নচেৎ নয়। বিস্ময়কর এক ষড়যান্ত্রিক পন্থা। বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে এই দলটি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর। তবে এটা ঠিক, বিএনপি যদি নির্বাচনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামে, তাহলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই জমে উঠবে।


বাংলাদেশে আজকের যে পরিবর্তন, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের যে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো, উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ তা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে। খুব সহজ ছিল না দারিদ্র্যজর্জরিত একটি দেশকে পৃথিবীতে একটি মর্যাদাসম্পন্ন দেশে উন্নীত করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস দূরীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধকরণ, দূর্নীতিমুক্ত দেশগঠন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা সৃষ্টি প্রভৃতি বিষয়ে এক অনন্য নজীর স্থাপিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের মাধ্যমে। যদিও তথাকথিত দেশনেত্রীর দল বিএনপি এবং তাদের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন উন্নয়নের পথে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে। দীর্ঘ ক্ষমতাভোগীদের ক্ষমতাহীনতার রোষানলে পুড়তে হয়েছে বারংবার বর্তমান সরকারকে। বহু জঞ্জালপূর্ণ পথ মাড়িয়ে, পথের কাঁটা সরিয়ে সরকারকে দেশ সাজাবার কাজে আত্ননিয়োগ করতে হয়েছে।


অবশ্য একথা সত্য যে যারা রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, দেশপ্রেমে অনুজ্জ্বল, ভালো কাজে তাদের গাত্রদাহ হবে এটা স্বাভাবিক। একুশ বছর বিএনপি-জামায়াতি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কোনো বাস্তবচিত্র আমরা দেখিনি। বিপরীতে উন্নয়ন, অগ্রগতি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও একটি যুৎসই অবস্থা সৃষ্টি করেছে সরকার। পাবলিক সার্ভিসের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ভিতর দিয়ে মেধাবী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ আজ এক অন্যতম দেশ, যে দেশকে এক নামে চেনা যায় মহাকাশে তাদের অবস্থান তৈরির পর। বাংলাদেশও আজ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর মহাকাশ বিজয় বাঙালি জাতির জীবনে এক নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশ এখন স্থলে জলে আকাশে এক অধিকার প্রতিষ্ঠাকারী দেশ। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের টাকা দিয়ে প্রায় অসম্ভব এক কাজ পদ্মাসেতু নির্মাণ, সে কাজটিও করে দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। যে দেশে কৃষক একদিন কৃষিজ দ্রব্যাদির জন্য আন্দোলন করে রক্তদান করেছে, সে দেশের কৃষক আজ হাসিমুখে সমস্ত সুবিধা পেয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কৃষিতে আজ বাংলাদেশ অনন্য জাগরণ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে এক সময় আমরা দেখেছি, বিদ্যুতের খুঁটি আছে অথচ তার নেই, আজ সে সমস্ত জায়গায় আলো পৌঁছেছে। পাহাড়ী জনপদের মানুষের জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ এনেছে বর্তমান সরকার।


রোহিঙ্গা সমস্যা এ অঞ্চলের তথা পৃথিবীর দীর্ঘকালের এক রক্তক্ষয়ী সমস্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন মানবতার এক অনন্য নজির। সমগ্র বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তা তাকিয়ে দেখেছে।


এসব মানবিক অগ্রযাত্রার ভূমিকা ও উন্নয়ন দেশবাসী তথা বিশ্ববাসীর ভুলে যাবার কথা নয়। সামনে সংসদ নির্বাচন। তা নিয়ে দেশবিরোধী, উন্নয়নবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, এ সুযোগে দেশব্যাপী একটি সুবিধাবাদী-হাইব্রিড গোষ্ঠী দলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তারা স্থায়ী জায়গা করে নিয়ে দলের নিবেদিতজনদের বের করে দিয়েছে, কেউ কেউ হতাশায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে প্রিয়তম দলটি থেকে, অথচ এরাই দলের প্রাণ। যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে এদেরকে ফিরিয়ে আনার।


একটি শ্রেণি আছে যারা দলটাকেই ভালোবাসে, নেই তাদের কোনো প্রত্যাশা, শুধু চায় একটু যোগাযোগ ও ভালোবাসা। এই পাগল সমর্থকগুলো দীর্ঘদিন হাসে না, এদের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে হবে, নইলে নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।


নির্বাচনের আগে দেশকে নানাভাবে অচল ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই পুরনো শকুন, এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনের আগে এই তৎপরতা তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে অনেকে মনে করেন। অনেকে মনে করেন, জঙ্গিসন্ত্রাসবাদী দলগুলো মাঝে মাঝে তাদের কর্মকাণ্ডের জানান দিলেও, চূড়ান্ত আঘাত হানার চেষ্টা করবে নির্বাচনকালে। এই বিজাতীয় গোষ্ঠী মরণ কামড় দেবে ক্ষমতাসীন হবার জন্যে। আর তা না হলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে তারা ঠেলে দিতে চেষ্টা করবে। এসব বিষয়ে নির্বাচনকালীন সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।


বাংলাদেশের সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সবাই প্রত্যাশা করে, এটি হবে বলে আমরাও মনে করি। তবে তার চেয়েও বড় কথা যেটি, তা হলো বাংলাদেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে যে দলটি কাজ করে, জনগণের সঙ্গে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়, আর যারা উন্নয়নকামী তাদেরকেই বিজয়ী করা।


এগুলো সময়ই বিচার করবে। আর এই বিচারের রায় জনগণের হাতে। কল্যাণকামীরা নিশ্চয়ই কল্যাণকামীদের প্রত্যাশায় থাকবে। আমরাও একটি কল্যাণরাষ্ট্র বাংলাদেশের কল্যাণকর শাসনের প্রত্যাশা করি।


লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/হুমায়ুন/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com