ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:৩৭
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

না খেয়ে কিন্তু বাঁচা সম্ভব না। অথচ কিছু কিছু মানুষের শরীর শর্করা ‘হজম' করতে পারে না। তাদের যে রোগ, তার নাম ডায়াবেটিস, বাংলায় যাকে বলে বহুমূত্র। ঘরে ঘরে এখন ডায়াবেটিস। ভয় নেই, কারণ আছে ইনসুলিন নামের একটি পদার্থ।


ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিবার খাবার আগে একটি হরমোন ইঞ্জেকশন নিতে হয়, যার নাম ইনসুলিন। নিয়মিত ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিলে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায় সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেন।


ইনসুলিন আবিষ্কৃত হবার আগে ডায়াবেটিস ছিল একটি মারাত্মক রোগ। মানুষ ডায়াবেটিসের লক্ষণ চেনে হাজার হাজার বছর ধরে। অতীতে কমবয়সিরাই এই রোগে আক্রান্ত হত। লক্ষণ ছিল তৃষ্ণা আর পেট-জ্বলে-যাওয়া ক্ষুদা। পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও রোগীরা অপুষ্টিতে মারা যেতো।


ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে কুকুরদের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, ডায়াবেটিক-দের যে পদার্থটির অভাব, সেটির উৎস হল পাকস্থলীর কাছে পরিপাকরস নিঃসরণকারী গ্ল্যান্ড প্যানক্রিয়াস।
প্যানক্রিয়াস নিঃসৃত নির্যাস দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করার প্রচেষ্টা চলে। কিন্তু সেই নির্যাস বার করার সময় প্যানক্রিয়াসের পরিপাক এনজাইম-গুলি বাকি সব পদার্থ বিনষ্ট করে ফেলে। চূড়ান্ত সমাধানটি দেন কানাডা-র দুই চিকিৎসাবিদ: ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং এবং চার্লস বেস্ট। তারা ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ১৯২০ সালে।


ইনসুলিনের কল্যাণেই দেহের কোষগুলি খাদ্য থেকে রক্তে যে শর্করার অণুগুলি ঢোকে, তা শুষে নিতে পারে। শর্করার অণু থেকে শরীরের যাবতীয় প্রক্রিয়া তাদের জ্বালানি পায়। ইনসুলিন না থাকলে দেহের কোষগুলি বাস্তবিক না খেয়ে মরে – তা রোগী যতোই খাদ্য গ্রহণ করুক না কেন৷ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যাপক হানি ঘটে। ব্যান্টিং ও বেস্ট মৃত পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করেছিলেন। সেই ইনসুলিন দিয়ে তারা প্রথমে পশুর ও পরে মানবের শরীরে সফলভাবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করেন। মৃত পশুর প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন বার করা ছিল যেমন কঠিন তেমনই ব্যয়সাপেক্ষ।


সস্তার ওষুধ


গত শতাব্দীর আশির দশকের আগে সস্তায় ইনসুলিন উৎপাদনের কোনো প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়নি। সেই সময় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুতে মানুষের ইনসুলিন জিনটি ঢুকিয়ে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়। কাজেই ইনসুলিনই প্রথম ওষুধ, যা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে। ইনসুলিনের কল্যাণে ডায়াবেটিসের রোগীরা আজ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।


অথচ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। এর কারণ হল বেশি খাওয়া ও কম দৌড়ঝাঁপ বা হাঁটাচলা করা। যার ফলে ডায়াবেটিস আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সারা বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। তবে খাওয়াদাওয়া ঠিক রাখলে আর নিয়মিত ব্যায়াম করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com