
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলমান সয়েল টেস্টের কাজে বাধা দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে গণজমায়েত ও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে সয়েল টেস্টে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নিতে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার মিছিল ও স্লোগান দিয়ে গবেষণা মাঠে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা ২৮ অক্টোবর উদ্বোধনের কথা থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা বন্ধের দাবি জানান। এ সময় মাঠে টানানো গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সাইনবোর্ড সরিয়ে দেন তারা। পরে সয়েল টেস্টের কাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
গবেষণা মাঠ থেকে ফিরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তারা। জবাবে উপাচার্য গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, ‘আজ আমরা মাঠে চলমান সয়েল টেস্টের স্যাম্পল নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি। প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনারা কতটা নির্জীবতা দেখাচ্ছেন যে, চোখের সামনে থেকে আপনাদের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অথচ আপনাদের কোনো হেলদোল নেই! আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, মাঠ রক্ষার এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সকল পরীক্ষা ও ক্লাস বয়কট করেছেন।বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত বারবার জানানোর পরেও সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত আমাদের একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি আমাদের রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করবো। আজ বা আগামীকালের মধ্যেই আমরা তাদের সঙ্গে বসবো এবং যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে।’
মেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মেলায় কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের দাবি বড় পরিসরের হলেও তা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আমরা নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যয় ও কাঠামোগত অবকাঠামো তৈরি করেছি এবং নিয়মের মধ্যেই অবস্থান করছি। আমাদের মেলার প্রায় ৮০% কাজ শেষ।’এদিকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) মাথায় লাল কাপড় বেঁধে গণজমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
একই দিন মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য গবেষণা মাঠটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]