
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে মামলার দ্বিতীয় আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবির শুনানি শেষে তিনি এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানা গেছে, পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হয় ২৯ জুন (সোমবার)। এরপর আজ মঙ্গলবার দুই আসামি কুষ্টিয়া জেলা দায়রা ও জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গত ১৯ মে উচ্চ আদালত (হাই কোর্ট) থেকে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহমেদ এবং ৩নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে নিম্ম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।
হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন যার নম্বর-৩৬। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১ নম্বর প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার অপর ৩ জন আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)। এরমধ্যে কিলার রাজিব মিস্ত্রি র্যাবের অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হয়। মামলায় প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, উসকানি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা জেনেছি খাজা আহমেদ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েচেন। তবে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বিবার্তা/শরীফুল/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]