সারাদেশ
পদ্মার চরে ৪ সন্ত্রাসী বাহিনীর ৩ ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ২২:০৪
পদ্মার চরে ৪ সন্ত্রাসী বাহিনীর ৩ ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ পদ্মার চরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। মাঝে মধ্যে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা গোলাগুলি ও বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে, যার ফলে হতাহত ও প্রাণহানির ঘটনাওবাড়ছে।


স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বালু উত্তোলন এলাকা নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্বার্থ এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বালুঘাট দখল, চরাঞ্চলের ফসলি জমির নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষ ও গোলাগুলিসংঘটিত হচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে একে-৪৭ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ আধুনিক ও ভারী অস্ত্র রয়েছে।


মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনায় আজিজুল হক ওরফে ঝড়– মাস্তান (৩৫) নামে একজন নিহত হন। প্রায় ৩ঘণ্টা ধরে চলা গোলাগুলিতেশতাধিক রাউন্ড বা তারও বেশী গুলি ছোড়া হয়।


এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরে খড়ের মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে কাঁকন বাহিনী ও মন্ডল বাহিনীর মধ্যে বন্দকযুদ্ধ হয়।


বন্দুকযুদ্ধে মন্ডল বাহিনীর সদস্য আমান মল্ডল (৩৬) ও নাজমুল মণ্ডল (২৬) এবং কাঁকন বাহিনীর সদস্য লিটন (৩০) সহ ৩জন নিহত হন।


তখন থেকেই সংঘর্ষে লিপ্ত সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র মতে, দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ১৪ হাজার মৌজায় দৌলতপুরের লালচাঁদ বাহিনী ওরাখি বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেলাল ওরফে মণ্ডল বাহিনীর সদস্যরা একত্রিত হয়ে কাঁকন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলি ও বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে কাঁকন বাহিনীর সদস্য আজিজুল হক ঝড়– নিহত হন এবং আরও অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত ঝড়– নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখ এর ছেলে। তিনি কাঁকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বালুমহালে কাজ করতেন ।


গোয়েন্দা সূত্র মতে, সম্প্রতি সরকারি ইজারার মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমতি পান কাঁকন বাহিনীসহ ১২জন ইজারাদার।


অভিযোগ রয়েছে, ইজারা কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী ও বেলাল (মÐল) বাহিনীর সদস্যরাইজারাদারদের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দাবি করে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ঝড়–কে মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঝড়– বিষয়টি কাঁকন বাহিনীর লোকজনকে জানালে তার সশস্ত্র সদস্যরা দুটি স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে যায়। তারা দৌলতপুর উপজেলার ১৪ হাজার মৌজার কলাবাগান সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষ লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী ও মন্ডল বাহিনীর সন্ত্র্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে কাঁকন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে আজিজুল হক ওরফে ঝড়– মাস্তান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।


ঘটনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া, বাঘা, ঈশ্বরদী ও লালপুর থানা পুলিশেরসদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে অভিযান ও তল্লাশি চালায়। পরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লালপুর উপজেলার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর তীর থেকে একটি স্পিডবোটের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় ঝড়– মাস্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সবুজ-নীল রঙের স্পিডবোটও জব্দ করা হয়েছে।


এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং ওসি (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসা।


তারা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বাঘা সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং নাটোরের একজন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নৌ-পুলিশ তদন্ত করছে। এঘটনায় ভারী অস্ত্র অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।


কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।


কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা আধুনিক ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। চরাঞ্চলে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবংপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


তবে চরবাসীর দাবি সন্ত্রাসীদের দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেআরো প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।


বিবার্তাা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com