কুষ্টিয়ায় পোড়া মবিল থেকে ডিজেল উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন মনিরুল
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৬:৫৯
কুষ্টিয়ায় পোড়া মবিল থেকে ডিজেল উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন মনিরুল
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ডিজেল সংকটে যখন দিশেহারা কৃষক, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের যুবক মনিরুল ইসলাম। অব্যবহৃত পোড়া মবিল থেকে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি ম্যাড, যা দিয়ে চলছে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন। এরফলে কৃষকরা হচ্ছেন উপকৃত। তবে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি ‘ম্যাড’ ইঞ্জিনে ব্যবহার উপযোগী কি না তা নিয়ে কাজ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মেশিনারিজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। ২০০৭ সাল থেকে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবন নিয়ে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টায় সফলতাও পেয়েছেন তিনি। ৫ লিটার পোড়া মবিলের সাথে তার উদ্ভাবিত ১০০ গ্রাম বুস্টার মিশিয়ে তৈরি করছেন ৭ লিটার ডিজেলের বিকল্প ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ যার নাম দিয়েছেন ‘ম্যাড’। পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সুফলও পাচ্ছেন কৃষকরা। কম খরচে সেচ সুবিধা পাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে।


উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম জানান, বিশেষ ধরনের একটি বুস্টার উপাদান ব্যবহার করে তিনি পোড়া মবিলকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তর করছেন। উদ্ভাবিত এই মিশ্রণটি ৪টি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি, যা মূলত বুস্টার হিসেবে কাজ করে এবং জ্বালানির কার্যক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষার সুফল হিসেবে এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করে কৃষকদের সেচকাচে সহায়তা দিতে পেরে খুশি তিনি।


স্থানীয় কৃষক আকরাম হোসেন ও ওমর আলী জানান, ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে তারা সেচ কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হচ্ছেন। ৫ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে ১০০ গ্রাম বুস্টার মিশিয়ে প্রায় ৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের এই দুঃসময়ে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে মনিরুলের উদ্ভাবিত বুস্টার পোড়া মবিলের সাথে মিশ্রন করে স্যালো ইঞ্জিনে সেচকাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।


তবে বিশেষজ্ঞরা মনিরুল ইসলামের উদ্ভাবন নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের প্রধান জাহিদুল হক বলেন, উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে উদ্ভাবনী এবং সাশ্রয়ী। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ইঞ্জিনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা।


এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে মনিরুল ইসলামের উদ্ভাবিত জ্বালানির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। এই বুস্টার ব্যবহারে ডিজেল ইঞ্জিনের কোন ক্ষতি বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে না তাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে। যদি এটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তাহলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


জ্বালানি সংকটকালে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্ভাবিত এই বুস্টার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, ভাল ফলাফল পাওয়া গেলে এর উদ্ভাবককে সরকারী সহায়তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজেল সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্ভাবন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময়।


জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় মনিরুল ইসলামের এমন উদ্ভাবন ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহার উপযোগী হলে ডিজেল সংকট নিরসনের পাশাপাশি কৃষকদের সেচকাজে সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিবার্তা/শরীফুল/এসএম


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com