
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে ইসরাফিল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ইসরাফিল। এ ঘটনায় ইসরাফিল বাদে আরও দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ইসরাফিল ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে। নিহত শিশুটি একই এলাকার বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফরিদপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার পিতা। ৩০ এপ্রিল শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামি ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশিকের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং মরদেহ পাশেই নাসিমা বেগমের বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে দেয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ২৮ এপ্রিল ট্যাংক থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে মরদেহ দেখতে পান। শিশু হত্যার দায় তাদের ওপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদূরে নিয়ে একটি কলাবাগানে ফেলে রাখে।
৩০ এপ্রিল কলাবাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দুজন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশ ইসরাফিল এবং লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেফতার করেছে। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]