সারাদেশ
রাজশাহীতে ৭০বিঘা জমি পানির দরে ইজারা
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৯:৪৭
রাজশাহীতে ৭০বিঘা জমি পানির দরে ইজারা
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

গোদাগাড়ী উপজেলার প্রায় ৭০ বিঘা তিন ফসলি জমি মাত্র প্রায় দুই লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত নিলামের পরিবর্তে গোপনে ইজারা দেওয়ায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।


জানা গেছে, উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি মাঠের এই জমিগুলো স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন এবং দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলাধীন। এ অবস্থায় আদালত গোদাগাড়ী থানা পুলিশ-কে রিসিভার (জিম্মাদার) নিয়োগ করে প্রতি বছর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে চলতি বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত নিলাম না করে থানার এক ‘সোর্স’কে গোপনে ইজারা দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তি পেশাদার কৃষক নন; বরং থানাকেন্দ্রিক দালালি করেন।


কৃষকদের অভিযোগ, যেখানে প্রতি বিঘা জমির বার্ষিক ঠিকামূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা- সেখানে মাত্র সোয়া দুই মন ধানের মূল্য ধরে ইজারা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৫৭ মন ধানের হিসাবে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকায় গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অলিউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে জমি ইজারা দেওয়া হয়। এতে প্রতি বিঘার মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ২ হাজার ৭৪২ টাকা।


স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এসব জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন হয়। প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনই হয় ৪০-৪৫ মন পর্যন্ত, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০-৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া শীত মৌসুমে টমেটো বা সরিষা চাষ করে আরও উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, মাইকিং এবং উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করার কথা। তবে এসব নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি নিলামের সময়, স্থান বা অংশগ্রহণকারীদের কোনো তথ্য চুক্তিপত্রে উল্লেখ নেই।


এদিকে ভূমিহীন কৃষকরা জমি বর্গা দেওয়ার দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় আবেদন করেছেন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত নিলাম হলে এই জমির ইজারা মূল্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারত।


ইজারাগ্রহীতা অলিউল্লাহ দাবি করেন, তিনি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ দর দিয়ে জমি নিয়েছেন। তবে নিলামের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কৃষকদের কাছে জমি ‘ঠিকা’ দিয়ে দেবেন।


জানা গেছে, ইজারা দেওয়ার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ওসি (তদন্ত) মোমিনুল হাসান, যার সঙ্গে ইজারাগ্রহীতার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।


বর্তমান ওসি আতিকুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে নিলামের সময়-তারিখ সম্পর্কে তিনিও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।


বিবার্তা/মোস্তাফিজুর/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com