
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ঘিরে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এ অবস্থায় নাগরিক ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে পাঠালেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নগরীর টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি সরাসরি সিডিএ চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি সরকারের বিরুদ্ধের লোক। জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, শাহাদাত ভাই আমাকে চেনে স্যার।
এতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাহাদাত ভাই চিনলে কী হবে! সমস্যাটা হয়েছে আপনাদের নিয়ে। মিডিয়ায় আপনার কোনো বক্তব্য নেই, অথচ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ পড়ছে মেয়রের ওপর।
মঙ্গলবার ও বুধবারের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
সিটি করপোরেশন ও সিডিএ সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় খাল সংস্কারের কাজ চলায় দুটি খালে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়াই এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএ চেয়ারম্যানকে গত দুদিন কোথাও দেখা না যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেছেন, আমিও করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মাঠে থাকা জরুরি ছিল। আমি আশা করেছিলাম সিডিএ চেয়ারম্যান অন্তত এখানে থাকবেন।
জলাবদ্ধতার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিরসনে কিছুটা সময় লাগবে। এ কষ্টের জন্য চট্টগ্রামের নাগরিকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।
বিবার্তা/জয়দেব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]