
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খাবারের হোটেলে হালিমে মাছি পাওয়ার পর কর্মচারীর দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারকের বিরুদ্ধে।এ ঘটনাকে পুঁজি করে বুধবার রাত ৮টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জোড়পূর্বক অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেল’–এ খেতে যান জাকসু নেতা হোসনে মোবারক। এ সময় খাবারে মাছি পেয়েছেন, এমন অভিযোগ তুলে তিনি কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে হোসনে মোবারক হোটেলের কর্মচারীকে লক্ষ্য করে হালিমের বাটি ছুড়ে মারেন। এরপর আজ বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে একদল শিক্ষার্থী বটতলায় দোকানদারকে প্রতিবাদস্বরূপ দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। দোকানদারেরা বন্ধ করতে না চাইলে তাদের হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে দোকানদারেরা দোকান বন্ধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তূর্য কীর্তনিয়ার নেতৃত্বে ভাসানী হলের অধীনস্থ দোকান বন্ধ করছে। এরপর জোড়পূর্বক দোকান বন্ধের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রশক্তি থেকে নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং গালিগালাজ করতে দেখা যায়।
জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘জাকসু নেতা হোসনে মোবারক যে ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা সবাই তার বিচার চাই। কিন্তু জোরপূর্বক বটতলার সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। আমরা দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার বিপক্ষে ছিলাম।’
এদিকে গতকাল রাতে কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারে দুর্গন্ধযুক্ত দ্রব্যাদির মধ্যে যে মাছি থাকে, সেই মাছি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মারি। আমি তাঁকে শারীরিকভাবে কোনো আঘাত করিনি। খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর পক্ষে একা সম্ভব নয়। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কোথাও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দোকানদারের দিকে হালিমের বাটি ছুড়ে মারা এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দোকান বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিবৃত্ত করা হয়েছে। আগামীকাল বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
বিবার্তা/সামিয়া/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]