
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অনেকে। জ্বালানি তেল পেট্রোল ও ডিজেল এর সংকট পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। তিন'শ টাকার তেল পাওয়ার আশায় আগের দিন রাত থেকে সিরিয়াল নিয়ে তেল নিতে হচ্ছে। কাঙ্খিত চাহিদা মতো পাচ্ছে না। অন্য দিকে দিনের বেলা তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নিয়ে শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে অনেকে ঘুরে গেছে। এদিকে বরাদ্দ কম পাওয়ায় অনেককে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তদারকি অফিসার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে হিলি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পেট্রোল ও ডিজেল নেওয়ার আশায় বাইকাররা ও অন্য যানবাহনের সিরিয়াল হতে থাকে। সকাল থেকে সিরিয়াল বাড়তে থাকে।
হিলি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসা বাইকার সানাউল্লাহ হক বলেন, পেট্রোল নেওয়ার আশায় গতকাল গভীর রাতে সিরিয়াল নিয়ে আজ সকাল এগারোটার দিকে তেল মাত্র তিন শত টাকার। সারারাত ঘুম জেগে খিচুড়ি রান্না করে খেয়ে এতো কষ্ট করে কাঙ্ক্ষিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে জানি না। তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন কৃষক বলেন,আমরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। এতে আমাদের যে দিন তেল দেয়। সেই দিম বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ও কাঙ্খিত তেল পাচ্ছি না। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
একজন মুরগী খামারি অভিযোগ করে বলেন, আমার খামারে প্রায় দুই হাজার সোনালি মুরগি আছে। বিদ্যুৎ এর যে অবস্থা সেখানে জেনারেটর চালাতে প্রতি ডিজেল লাগে চার লিটার। আর দুই দিন কখনো তিন দিন পরে ডিজেল পাচ্ছি ৩০০-৪০০ টাকার। আমি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
একজন ট্রাক চালক অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বগুড়া বা সিরাজগঞ্জ যাওয়া আসা ডিজেল লাগে চার হাজার টাকার ওপরে। সেখানে পাম্পে ডিজেল দিচ্ছে মাত্র দুই হাজার টাকার। ফলে যানবাহন চলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক জন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পরও যদি এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সরকার যদি খুচরা পর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো এই ভিড় ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো না।
পাম্পে তেল নিতে আসা এক জন বাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নিয়ে শেষে এসে শুনি তেল নেই। তেল দেওয়া বন্ধ করেছে তিনটার দিকে। তাহলে এই কষ্ট করার কি দরকার ছিলো।
হিলি ফিলিং স্টেশনে তদারকি অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগে শুধু পেট্রোল ও অকটেন এর সংকট ছিলো। এখন ডিজেল এর ও চাহিদা বেড়েছে। বরাদ্দ যেটুকু পেয়েছি সেটুকু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিক্রি করে শেষ হয়েছে। তাই বন্ধ করে দিয়েছি। আজকে ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছি ৫ হাজার লিটার আর পেট্রোল পেয়েছি মাত্র ২ হাজার লিটার। সিরিয়াল মতে প্রতিটি বাইকে ৩০০ টাকার পেট্রোল তেল দেওয়া হয়েছে। পাম্পে তেল না থাকায় অনেকে ফেরত গেছে।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি তদারকি অফিসার অফিসার নিয়োগ দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমি নিজে গিয়ে তদারকি করতেছি।
তিনি আরও জানান, আমাদের ফুয়েল কার্ড প্রায় প্রস্তুত হয়েছে শুধু আমার স্বাক্ষর বাকি আছে। তবে আমরা পৌর সভা ও তিনটি ইউনিয়নের জন্য সুবিধার জন্য ফুয়েল কার্ড এর কালার আলাদা করা হচ্ছে। যা বরাদ্দ পাবো আজকে দুটো ইউনিয়ন দিলাম। পরের দিন অন্য দুটিতে দিলাম। এতে সিরিয়াল কম হবে এবং ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছি। যারা ফুয়েল কার্ড এর জন্য আবেদন করেছেন দুই থেকে তিন শতাংশ বাদ পড়েছে। পরবর্তীতে আবারও আবেদন আহবান করা হবে বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/রববানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]