
নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে একমাত্র সন্তান কে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফারহানা আক্তার। ন্যায্য ও আইনগত অধিকার ফিরে পেতে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের
হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রবিবার (১৯এপ্রিল) সকালে লোহাগড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারহানা আক্তার জানান, ২০০৯ সালে লক্ষীপাশা গ্রামের মুকুল মোল্যারৎ সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদদের পক্ষ থেকে তাকে যৌতুকের জন্য চাপ ও বিভিন্ন ভাবে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এরই মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। জীবিকার তাগিদে তার স্বামী বিভিন্ন স্থানে চাকরি করার পর সর্বশেষ পৌর শহরের রামপুর নিরিবিলি পিকনিক স্পটে টিকিট কাউন্টারে কাজ করতেন। গত ২৭ আগস্টকর্মস্থলে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করলেও গত ২০ সেপ্টেম্বর শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন। বর্তমানে তিনি একমাত্র সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। সহানুভূতির ভিত্তিতে লোহাগড়ার নিরিবিলি পার্কের মালিক স্বল্প বেতনে চাকরি দেন।
ফারহানা আক্তার অভিযোগ করেন, তাকে পার্ক ও আশ্রয়স্থল থেকে বিতাড়িত করার জন্য শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছাড়াচ্ছে। তিনি স্বামীর বসতভিটায় আইনগত অধিকার অনুযায়ী বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিবার্তা/শরিফুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]