
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পেট্রোল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই বাইকার।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) দীর্ঘ চার দিন পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হিলি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পেট্রোল দেওয়া শুরু করে। কাঙ্খিত এই পেট্রোল পেতে আগের দিন বিকেল থেকে বাইকাররা লাইন হতে শুরু করে। হঠাৎ রাতে বৃষ্টি হওয়ায় বাইকাররা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাত্রি যাপন করে। এর মধ্যে শত শত বাইকের সিরিয়াল হয় যায়। বাইকারদের দাবি এক দিন পর জ্বালানি তেল দিলে হয়তো এতো ভোগান্তি হয় না। তবে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পেট্রোল দেওয়া নিয়ে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা নিজে উপস্থিত থেকে, তদারকি অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন ও পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে গাড়ি সিরিয়াল করে, প্রথমে পল্লী বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য কর্মী, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লোকজন, গণমাধ্যম কর্মীদের গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকার তেল দেয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাইকের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে।
তেল নিতে আসা এক জন বাইকার বলেন, গাড়িতে তেল নাই, মাঝ রাস্তায় তেল শেষ হয়েছে তাই গাড়ি খুব কষ্ট ঠেলে নিয়ে এসেছি বিকেলে। সকালে তেল পাওয়ার আসায়। হঠাৎ রাতে বৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাত্রি যাপন করেছি। সকালে তেল দেওয়া শুরু করলে কিছু ব্যক্তিদের আগে তেল দেওয়া শুরু করে। তার পর প্রায় সাড়ে আটটার দিকে আমাদের শুরু করে। পাঁচ দিন পরে এতো কষ্ট করে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেট্রোল পেলাম আগে জানতে পারলে আসতাম না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, যে দীর্ঘ লাইন পড়েছি তেল পাবো কি না জানি না। যদি আজকে তেল না পাই। তাহলে আগামীকাল প্রতিষ্ঠানে ভ্যানে চড়ে যেতে হবে। আর শুনতেছি ৩০০ টাকার তেল দিবে কয় দিন চলবে।
আর একজন বাইকার বলেন, আমি দুপুর প্রায় বারোটার দিকে এসে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু ক্ষন পরে হঠাৎ করে ইউএনও এসে বলে আপনার গাড়ির কাগজ নাই চলে যান। আমি একটু দেরি করায় ওনার সাথে থাকা আনসার ও পুলিশ কয়েক জনের গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। অথচ তার সামনে নাম্বার বিহীন গাড়িতে তেল দেওয়া দেখা গেছে। আবার যারা নেতা তারা সিরিয়াল না মেনে সামনের দিক থেকে তেল নিচ্ছে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে। এই যে দীর্ঘ লাইন এরমধ্যে দুই জন বাইকার অসুস্থ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়।
একজন গণমাধ্যম কর্মী অভিযোগ করে বলেন, আমি ভোরে তেল নিতে আসি। বিগত দিনেও গেছি তেল ও পেয়েছি। আমার কাছে আমি যে প্রিন্ট মিডিয়ায় তার আইডি কার্ড সাথে ছিলো। কিন্তু গাড়ির কাগজ না থাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের লাইন থেকে সড়ে যেতে বলেন ইউএনও। আমি তাৎক্ষণিক সড়ে এসে দূর থেকে অনেকে দেখি গাড়ির কাগজ পত্র যাচাই বাছাই ছাড়াই ওনার উপস্থিতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরবে চলে আসি সেখান থেকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর প্রতিনিধি ল্যাপটপে গাড়ির নাম্বার এন্ট্রি করতিছে। নাম্বার বিহীন "এলিন মটরস' তেল পেলে তাৎক্ষণিক আমি জিজ্ঞেসা করি এটাতে কি এন্ট্রি করলেন, তিনি বলেন চেসিস নাম্বার। নাম্বার বিহীন গাড়ি তো তেল পাওয়ার কথা না। তিনি বলেন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এসেছে কি করবো।এসময় গাড়ির নাম্বার এর জন্য টাকা জমা দেওয়া হয়েছে নাম্বার নাই টাকা জমার কাগজ অনেক পুরাতন হয়ে গেছে এমন গাড়িতে ও তেল দিতে দেখা গেছে।
উপজেলার একমাত্র হিলি ফিলিং স্টেশনে তদারকি অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা মহোদয়ের নির্দেশে গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকার তেল পেট্রোল দিচ্ছি। এবারের বরাদ্দ ২৫০০ লিটার পেট্রোল। আজকে কতজন বাইকার কে পেট্রোল দেওয়া হয়েছে এবং নাম্বার বিহীন গাড়ি কিভাবে আপনার উপস্থিতি পেট্রোল পেলেন জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সাড়া না তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ এ দিয়েছি। ওনি দেখেছেন কিন্তু কোন উত্তর দেন নাই।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা ইতিপূর্বে বলেন, পাম্পে তেল কোন প্রকার যেন ঝামেলা না হয়। সেই জন্য তদারকি অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং আমি নিজেও উপস্থিত থেকে বাইকের বৈধ কাগজ পত্র যাচাই করে প্রতিটি বাইকে পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হয়েছে। আজকে পেট্রোল তেল ৩০০ টাকার দেওয়া হয়েছে। নাম্বার বিহীন কোন গাড়ি তেল পেয়েছে এবং নাম্বার বিহীন গাড়ি তীব্র রোদে তেলের আশায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে গিয়ে গাড়ির কাগজ পত্র না থাকায় চাবি নিয়ে এসেছেন তিনি। যদিও অনেক পরে চাবিগুলো ফেরত দিয়েছেন তিনি। যাদের বৈধ কাগজ পত্র নাই তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেউ ঝামেলা করতে যেন না পারে সে কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছি এসব সঠিক তথ্য জানার জন্য ওনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সাড়া না পেয়ে ওনার হোয়াটসঅ্যাপ এ দিয়েছি। সেখানে ও কোন জবাব না পাওয়া তাঁর বক্তব্য লেখা সম্ভব হয় নাই।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]