স্কুলছাত্রী নিশাত হত্যায় অটোরিকশাচালকের দায় স্বীকার
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২৬
স্কুলছাত্রী নিশাত হত্যায় অটোরিকশাচালকের দায় স্বীকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ২ দিন পর ৬ বৎসর বয়সি স্কুলছাত্রী নিশাত জাহানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার হওয়া প্রতিবেশী অটোরিকশাচালক ইসহাক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


নিহত নিশাত জাহান সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


শনিবার (১৮ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।


পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে চিপস কিনতে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল নিশাত। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে বস্তার ভেতর তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা কাপড় দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন।


পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে শিশু নিশাতের সঙ্গে ইসহাকের দেখা হয়। পরে ঘুরানোর কথা বলে নিশাতকে নিয়ে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায় সে। সারা দিন ঘুরে রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিয়ে গ্রামে ফিরে ইসহাক। নিয়ে যায় তার নিজ বাড়িতে। ওই দিন বাড়িতে ইসহাক একাই ছিল। তার স্ত্রী-সন্তান ছিল শ্বশুরবাড়িতে। তার উদ্দেশ্য ছিল রাতে নিশাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এক পর্যায়ে নিশাতের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলে বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলে দেবে বলে জানায় সে। এতে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসহাক তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে একদিন ঘরে রেখে পরের দিন বাড়ির পাশের একটি স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।


ঘটনার তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রথমে নিজেকে এলাকায় না থাকার দাবি করলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সে ঘটনাস্থলের আশপাশেই ছিল। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।


শনিবার দুপুরে পুলিশ অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।


পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা বলেন, সাধারণত হত্যা করে কেউ দূরে লাশ এনে ফেলবে না। সেই ধারণা থেকেই সন্দেহভাজন হিসাবে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক ইসহাককে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তবে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাকে তার এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। তার এই মিথ্যা কথার কারণে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে মুখ খুলে।


তিনি বলেন, শুধু সন্দেহভাজন বললেই হয় না। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অনেক কাজ করতে হয়। এরই আলোকে তার বাসায় গিয়ে শ্বাসরোধ করার কাজে ব্যবহৃত গেঞ্জিটি উদ্ধার করি। এরপর যে পার্কে ঘুরতে যায় সেখানেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে আপাতত মনে হচ্ছে, সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপরও যদি কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com