
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর তথা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় (৯-১০) কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একমাত্র "হিলি ফিলিং স্টেশনটি জ্বালানি তেল পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে মোটরসাইকেল আরোহীসহ পেট্রোল চালিত যানবাহন মালিকরা। ডিপো থেকে জ্বালানি তেল আসতেছে তারপর দেওয়া হবে এবং চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ।
অন্য দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, জ্বালানি তেলের সংকট নেই। তবে ডিপো থেকে বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেল ফিলিং স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে তেল পাওয়া যাবে। খোলা বাজারে লাইসেন্স বিহীন কোন দোকানি বা ব্যক্তি জ্বালানি তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই থেকে তিন মোটরসাইকেল প্রতি ১০০- ১৫০ টাকার জ্বালানি তেল পেট্রোল বিক্রি করার পরে বন্ধ রয়েছে এই উপজেলার একমাত্র"হিলি ফিলিং স্টেশনটি"।
বিকেল তিনটায় সরজমিনে হিলি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, জ্বালানি তেল পেট্রোল এর জন্য মোটরসাইকেল আরোহী সহ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে তবে পাম্পে পেট্রোল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘুরে যাচ্ছে মোটরসাইকেল আরোহীরা। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা বলছেন, তেল আসতিছে আসলে দেওয়া হবে। যেটুকু ছিলো সকাল থেকে দিয়ে শেষ করেছি।
মোটরসাইকেল আরোহী একরামুল হক, তারিকুল ইসলাম, শফিকুর রহমান বলেন, দুপুর বারোটা নাগাদ জানতে পারলাম পাম্পে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে। সেই কথা শুনে পাম্পে এসে শুনতেছি পেট্রোল শেষ হয়েছে। গাড়ি আসতিছে আসলে পাবেন। এদিকে খোলা বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এখন মোটরসাইকেল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। তেল (পেট্রোল) মোটরসাইকেল কিভাবে চালায়। জরুরি কাজে বাহির হয়েছি এখন কি করবো বুদ্ধি পাচ্ছি না।
হিলি ফিলিং স্টেশনে বিক্রয়কর্মী জাকারিয়া হোসেন বলেন, না থাকলে কিভাবে দিব বলেন। তেলের গাড়ি সন্ধার মধ্যে পৌঁছার কথা। আসলে আবার দেওয়া হবে। যেটুকু ছিলো সকাল থেকে বিক্রি করে শেষ হয়েছে।
এবিষয়ে হিলি ফিলিং স্টেশনের মালিক আলহাজ্ব শাফি শেখ মুঠোফোনে বলেন, যে টুকু পেট্রোল ছিল সকাল থেকে বিক্রয় করে শেষ করেছে। এখন সম্ভবত শুধু ডিজেল আছে। ডিপো থেকে পেট্রোল নিয়ে গাড়ি আসতিছে সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছার কথা। আসলেই আবার বিক্রয় করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাম্প খোলা রাখতে বলছেন কিন্তু আমি আমার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক পেট্রোল পাচ্ছি আর অকটেন তো নাই। এখন আমি কি করবো ওনি (ইউএনও) মহোদয় বলতিছে চালিয়ে নেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হিলি স্থলবন্দর সহ এই উপজেলায় একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন। প্রতি দিন আমার চাহিদা প্রায় ৫ হাজার লিটার। সেখানে আমি ডিপোতে বরাদ্দ পেয়েছি ২ হাজার লিটার। তাহলে একজন মোটরসাইকেল আরোহী কে ১ লিটার করে দিলে পাবেন ২ হাজার ব্যক্তি। তারপর পাম্পে তেল না থাকায় স্বাভাবিক। জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে।
হিলি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পেট্রোল নেই এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা মুঠোফোনে বলেন, আমরা মালিক এবং ডিপোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতেছি। সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনে তেল পেট্রোল বিক্রি করা হয়েছে। শেষ হয়ে যাওয়া সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আমি ডিপোতে যোগাযোগ করে কথা বলেছি আশাকরা যায় সন্ধ্যার মধ্যে পেট্রোল পৌঁছে যাবে। এরপর ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে জ্বালানি তেল বিষয়ে। লাইসেন্স বিহীন খোলা বাজারে কোন ব্যক্তি বা দোকানি জ্বালানি তেল পেট্রোল বিক্রি করতিছে এমন খবর সত্য প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংকট নয় এই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান তিনি। আগে যেখানে ফিলিং স্টেশন মালিকরা (৫-৬) দিন পরে ডিপোতে তেল নিতে যেতো। সেখানে এখন একদিন পরে ডিপোতে যাবে। তবে ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করতে হবে। কোন ভাবেই খোলা বাজারে তেল পেট্রোল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]