
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস কতৃপক্ষের।
অন্য দিকে বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেও জনৈক বিএনপির নেতা পরিচয়দানকারী প্রশিক্ষণরত আইনজীবী আঃ আলিম ও মাদ্রাসার সুপার এলাকার কিছু লোক সাথে নিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করে নিয়োগ প্রাপ্ত চারজন কর্মচারীর বেতন সাবমিট, প্রতিষ্ঠানে গেলে বাহির করে দেওয়া, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেওয়া, কমিটির সদস্য থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে অনুমোদিত কমিটি ভাঙ্গার চেষ্টা করছে আঃ আলিম ও তার দল অভিযোগ মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্যদের।
৯ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অফিস পত্রের মাধ্যমে উক্ত মাদ্রাসার সকল শিক্ষক কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ডাকা হয়েছে। শুধু মাত্র প্রশিক্ষনরত আইনজীবী আঃ আলিম। তার দাবি আমি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাত্তণ শিক্ষার্থী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে বাসা আমি সবার সার্থে নিজের ইচ্ছায় আসছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে কথা হয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জিয়াউল হক বলেন, আমি ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। আমার বাড়ির পাশে বাজারে চা দোকানে বসে ছিলাম। এমন সময় মাদ্রাসা সুপার ফোন দিয়ে তার বাড়িতে ডাকে। সেখানে গিয়ে দেখি আঃ আলিম উপস্থিত রয়েছে। তারা দুজনে আমাকে চাপপ্রয়োগ করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে। পরে শুনি কমিটি ভাঙ্গার জন্য সেই মাদ্রাসা বোর্ডে জমা দিয়েছে ফর্ট আলিম ও মাদ্রাসা সুপার।
এসময় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ নিরাপত্তা কর্মী শাকিল হোসেন ও নাইটগার্ড বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বৈধ প্রক্রিয়ায়, মেধা ও লিখিত পরীক্ষার উক্ত মাদ্রাসায় চাকরি পেয়েছি। আমাদের নিয়োগপত্র, যোগদান পত্র সব আছে। এরপর আঃ আলিম ও মাদ্রাসা সুপার মোজাহার আলী এবং গ্যাং আমাদের বেতন সাবমিট, প্রতিষ্ঠানে গেলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয় না। আমরা প্রতিষ্ঠানে গেলে আঃ আলিম কিছু লোকজন ও কিশোর গ্যাং নিয়ে গিয়ে বলে, এই এরা কেন বেঞ্চে বস এদের লাথি মেড়ে বাহির করে দেও। আর শোন টাকা দিলে তোমারা আসবা নতুবা কখনো আসার চেষ্টা করবে না সহ আরও হুমকি দেয়। বেতন সাবমিট করতে না পারায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা বর্তমান সরকার বাহাদুর সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার চাই।
গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অন্য সদস্যদের অনুমতি ও রেজুলেশনের মাধ্যমে গত ৬/১/২৬ ইং তারিখ থেকে মাদ্রাসার সুপারের দ্বায়িত্ব পালন করছি।কিন্তু ক্ষমতার বলে এবং গায়ের জোরে সুপার মোজাহার আলী আমাকে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় নাই। আমরা শিক্ষক কর্মচারী মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি এই মর্মে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে আমাদের মাদ্রাসা টিউশন ফি উত্তোলন করে একাই আর্থ সত করে। হাজিরা লুকিয়ে রাখে কখনো সাড়ে দশটা এগারোটায় স্বাক্ষর করতে দেয়। তারপর আমি দ্বায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখতে পায় বা জনতে পারি চারজন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং প্রতিটি কাগজে সুপার মহোদয়ের স্বাক্ষর আছে। অথচ কর্মচারীদের কাছে সুপার ও আঃ আলিম মোট অংকের টাকা দাবি করা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের বেতন সাবমিট করতে দিচ্ছে না। আমি বিষয়গুলো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বললাম। তিনি তদন্ত শেষে সুষ্ঠ ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মোজাহার আলী বলেন, ভাই আমার মাথা ঠিক নাই পরে কথা বলবো বলে পরে উপজেলা থেকে কৌশলে চলে যায়।
এদিকে অভিযুক্ত আঃ আলিম বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের কেউ নয়। তবে প্রায় বিশ বছর আগে আমি শিক্ষার্থী, ছিলাম এবং পাশে গ্রামে তাই আমি সবার সার্থে এখানে এসেছি। আমাকে অফিস চিঠি করে নাই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়ার সাথে আমার প্রায় একমাস থেকে সাক্ষাৎ হয় নাই। এর আগে আর এক সদস্য গোলাম রব্বানী থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে জমা দিয়েছিলেন। জবাবে বলেন জোর করে স্বাক্ষর নেইনি তবে তদন্তের সময় চাপের মুখে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানের টেবিল উপস্থিত হয়ে তার কোন অভিযোগ নেই স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়।
মাদ্রাসা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসায় উক্ত পদের জন্য প্রযোজ্য মেধার ভিত্তিতে ফ্রি এ্যাড ফেয়ার পরীক্ষার মাধ্যমে বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং মাদ্রাসা সুপার প্রতিটি কাগজে স্বাক্ষর করেছে। পরবর্তীতে আমি মাদ্রাসায় গেলে জনৈক বিএনপির নেতা পরিচয়দানকারী প্রশিক্ষণরত আইনজীবী আঃ আলিম বলে আমাকে টাকা না দিলে কমিটি ভেঙে দিব এবং কর্মচারীদের বেতন সাবমিট করতে দিব না। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাদ্রাসার সুপার ও আরও কিছু দূষ্ট লোক সাথে নিয়ে আমাকে এবং আমার মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন হয়রানি এবং নতুন কর্মচারীদের হুমকি ও বেতন সাবমিট করতে দিচ্ছে না। আমি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।
এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শমসের আলী মন্ডল বলেন, উপজেলার গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা। তদন্ত চলমান রয়েছে তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে উর্ধতন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]