দৌলতপুরে দুই সপ্তাহে সাপে কেটেছে ৮ জনকে, এত শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ২৩:২২
দৌলতপুরে দুই সপ্তাহে সাপে কেটেছে ৮ জনকে,  এত শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ জনের কেউ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আবার কউ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে ৩ জন নারীকে সাপে কামড় দেয়। এর আগের দিন রবিবার একই গ্রামের সিয়াম (১২) নামে এক শিশু বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যায়।


এছাড়াও সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন একই গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬), মহাসিন আলীর স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯) এবং রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২)। সিয়াম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।


দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪জন সাপের কামড় নিয়ে ভর্তি হোন। এদের মধ্যে বৈরাগীরচর এলাকার তহের আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫৩), চককৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাদী গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা খাতুন (২২)।


স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুরগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রবিবার রাতে শশীধরপুর মাঠসংলগ্ন ডীপপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও রাত ১ টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


পরদিন একই গ্রামে আরও ৩ জন নারীকে সাপে কামড় দেয়। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে মাঠে ও ফসলি জমিতে এবং বাড়ির আশপাশেও সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসী। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে সাপ আতঙ্ক।


সাপের কামড়ে অসুস্থ বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন বলেন, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় হঠাৎ পায়ে কামড় অনুভব করেন। পরে স্থানীয়রা এটিকে সাপের কামড় বলে সন্দেহ করেন। দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।


দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট ৮জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com