দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বন্ধ ফিলিং স্টেশন
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭
দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বন্ধ ফিলিং স্টেশন
কু‌ষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যতবন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।


সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল মজুত করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। এরফলে জ্বালানি তেলের তীব্রসংকট সৃষ্টি হয়েছে।


বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন বর্তমানে জ্বালানি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পেই নোটিশ টানিয়ে জানানোহয়েছে, ‘তেল নাই, প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে’।


এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সি রয়েছে। এরমধ্যে, মথুরাপুরে হাসিব, হোসেনাবাদের রিপেল, দৌলতপুর সেন্টার মোড়ে মজনু ও মিরাজ এবং আল্লারদর্গায় কামাল উল্লেখযোগ্য। তবে মঙ্গলবার রাত৯টার দিকে শুধুমাত্র দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের মিরাজ এর এজেন্সি থেকে নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকদের লাইন দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বাকিগুলোতে তেল না থাকার অযুহাত দেখিয়ে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ না করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।


এদিকে অবৈধভাবে মজুদকরা তেল পাচারকালে বিজিবিরতল্লাশিতে প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।


এ বিষয়ে তারাগুনিয়ার সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলামের ছেলে শাওন বিশ্বাস জানান, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এর আগে ৪ মার্চ বুধবার খুলনার মেঘনাডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা এখন সব শেষ।


অপরদিকে খলিশাকুন্ডি’র হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কয়েকজনকর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের তথ্য দেন। তারা জানান, পাম্পে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। তাদের অকটেন বিক্রির অনুমোদন নেই। তবে সামান্য কিছু ডিজেল থাকায় সেটি সারাদিন অল্প অল্প করে বিক্রি করা হচ্ছে।


এদিকে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলের পাচার রোধে কঠোরনজরদারিতে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন ও চলাচলের ওপর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুদ রয়েছে, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ যদি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে দৌলতপুর উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ফিলিং স্টেশন মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com