
দিনাজপুরের হাকিমপুরে ছুটির দিন রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) মাইক্রোবাস রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে স্থানীয় কিছু শ্রমিক মব সৃষ্টি করে এসপির চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা থেকে ফিরে এসআর কোচের ড্রাইভার ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এসআর পরিবহনের চালক হাফিজুল ইসলাম (৪২) আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য কিছু পরিবহন শ্রমিকরা থানায় গিয়ে শ্লোগান দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন এর নেতৃত্বে তাদের সাথে কথা পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি চারমাথা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর (হিলি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, তার বাড়ি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায়। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে তিনি একটি মাইক্রোবাসযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে রওনা দেন। পথে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি এলাকায় ইফতার শেষে বডিগার্ড ও গাড়িচালকসহ আবারও ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
তিনি বলেন, পথিমধ্যে একটি ঢাকা থেকে ফিরে আাসা এসআর পরিবহনের কোচ একই পথে হিলির দিকে যাচ্ছিল। আমার গাড়ির চালক কোচটিকে সাইড দেওয়ার জন্য সংকেত দেয়। একপর্যায়ে আমাদের মাইক্রোবাসটি কোচটিকে প্রায় ওভারটেক করে ফেলেছে হঠাৎ কোচটির ড্রাইভার ডান পাশে চাপিয়ে দেয়। এতে আমাদের মাইক্রোবাস সড়কের পাশের একটি গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং আমার ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। তবে আমরা অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই।
পরে কিছু দূর গিয়ে ওই কোচটি থামানো হলে এসপির বডিগার্ড ও ড্রাইভার কোচটির ড্রাইভার ও সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বাকবিতন্ডায় এসপির বডিগার্ড ড্রাইভারকে চর থাপ্পর মারে। যা পুলিশ সুপারের অজান্তে হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ সুপার নিজে গাড়ি থেকে নেমে শান্তভাবে ড্রাইভার কে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং নিজের পরিচয় দেন। তোমার গাড়িতে যাত্রী নাই তাহলে তুমি এমনটা কেন করলে। এমন কথাতে কোচের চালক চড়াও হলেও সুপারভাইজার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। তবে চালজ দোষ স্বীকার না করে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পরিবহনের সুপারভাইজারের অনুরোধে বিষয়টি ঘটনা স্থলে মীমাংসা করা হয় এবং উভয়পক্ষ নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেন।
এরপর হিলি বন্দরের চারমাথা মোড়ে এসপির গাড়ি পৌঁছালে আবারও ওই এসআর পরিবহনের কোচটি সেখানে বেরিকেড দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের মাইক্রোবাসটি আটকে দেয়। সেখানে ও এসপি গাড়ির তাদের উদ্দেশ্য বলেন এঘটনার আমার কাছে ভিডিও আপনারা দেখেন তারপর দোষ থাকলে কি করবেন করেন। তাৎক্ষণিক উপস্থিত শ্রমিরা উত্তেজিত হয়ে এসপির ড্রাইভারকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাকিমপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সুপার ও তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে এবং এসআর পরিবহনের ড্রাইভার হাফিজুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন আরও বলেন, আমি শুরু থেকেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ড্রাইভার বারবার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। তার বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ভিডিও ফুটেজও আমার কাছে রয়েছে। তারা শুরু থেকেই মব সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এমনকি থানায় গিয়ে শ্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল যা পরে পারে নাই।
পরে হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেনের কার্যালয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক সহ বসে এসপির ভিডিওটা দেখানো হয়। সবাই বলে তাদের (এসপির গাড়ির) দোষ নেই। তারপরও উপস্থিত সকলে অভিযুক্ত ড্রাইভারকে উত্তমমধ্যম দিয়ে এসপির নিকট ক্ষমা চেয়ে মীমাংসার চেষ্টা করে। পরে এসপি হেলাল হোসেন ঘটনাটি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারকে এবং এসআর পরিবহনের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য সিরাজ হোসেন মহোদয়ের কথা বলেন।
পরে উর্ধতন কতৃপক্ষের পরামর্শে এ ঘটনায় এসআর পরিবহনের ড্রাইভারের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে এসপির ড্রাইভার বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে হাকিমপুর (হিলি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই এসআর পরিবহনের ড্রাইভার হাফিজুল ইসলাম উত্তেজনা সৃষ্টি ও মব তৈরির চেষ্টা করছিল। তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ সহ উত্তেজনা বিরাজ করলেও এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে যানচলাচল সহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]