ঘুষের টাকা ফেরত চাইতেই মা-মেয়েকে মারধর, ইউএনও ডেকে দেওয়া হল কারাদণ্ড
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০১
ঘুষের টাকা ফেরত চাইতেই মা-মেয়েকে মারধর, ইউএনও ডেকে দেওয়া হল কারাদণ্ড
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাসে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠা এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে মা-মেয়েকে মারধর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণত নিজ নিজ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ওয়ারিশ সনদ দিয়ে থাকে। জুবাইদা পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ওয়ারিশ সনদের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তিনি সনদ পাননি বলে অভিযোগ।


জুবাইদার দাবি, স্থানীয় নারী সদস্য সম্পর্কে তাঁর ফুফু এ ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়েছেন। পরে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য জুবাইদা চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় জুবাইদা আদালতে আবেদন করে তদন্তভার এসিল্যান্ডের কাছ থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে আদালত পেকুয়া থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম তদন্তের দায়িত্ব দেন থানার এসআই পল্লবকে।


অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব বাদী জুবাইদার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে জুবাইদার খালা নিজের স্বর্ণের আংটি বন্ধক রেখে ওই টাকা জোগাড় করেন এবং তা এসআই পল্লবকে দেন। কিন্তু তারপরও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জুবাইদার বিপক্ষে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে এসআই পল্লবের বিরুদ্ধে।


এ ঘটনায় জুবাইদা ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের কাছে জানতে চান কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তারা ঘুষ হিসেবে দেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত চান।


অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ মা-মেয়ের ওপর চড়াও হয় এবং নারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাদের মারধর করা হয়।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম বলেন, তিনি জুবাইদা ও তার মায়ের সঙ্গে মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে পেকুয়া থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শুনেছেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব বাদীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু পরে বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ায় জুবাইদা ও তার মা টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ মা-মেয়েকে মারধর করে থানার গেটে নিয়ে যায় এবং সেখানে থাকা সাধারণ মানুষকে বের করে দেওয়া হয়।


পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে থানায় ডেকে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মা ও মেয়েকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাদের চিকিৎসা না দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠান পুলিশ।


ঘটনার খবর পেয়ে জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও তার খালা আমেনা মুন্নী থানায় গেলে প্রথমে তাদের কাছে মা–মেয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।


রুবেল বলেন, তার বোনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাদের ওপর নির্যাতন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুইজন নারী থানায় গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করার অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত। তার দাবি, এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।


এবিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, থানায় একটি ঘটনার সূত্র ধরে তিনি সেখানে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় গিয়ে দেখা যায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই তদন্ত করে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।


এসআই পল্লবের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, বিষয়টি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। খারাপ আচরণের কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


ঘটনার বিষয়ে জানতে এসআই পল্লবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসআই পল্লবের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে ঘটনার সূত্রপাত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।


বিবার্তা/জয়দেব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com