ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে
নির্বাচনের আগমুহূর্তে পার্টি সমর্থন নাটক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৪
নির্বাচনের আগমুহূর্তে পার্টি সমর্থন নাটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাতীয় পার্টির প্রার্থী বা দলটির সমর্থন নিয়ে শুরু হয়েছে কাড়াকাড়ি। সোমবার রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নির্দেশে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস মার্কা প্রতীকের রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেয় জাতীয় পার্টি। নির্বাচনী এলাকার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সমর্থন ব্যক্ত করেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী। এ সময় উপজেলার নেতারাও তার সঙ্গে ছিলেন।


এর আগে রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন অ্যাডভোকেট মৃধা। এরপরই মঙ্গলবার বিকালে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিও বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা সমর্থনের নতুন মত ব্যক্ত করেন।


তিনি বলেন, অনিবার্য কারণবশত এক বিবৃতি দিয়ে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। পরবর্তীকালে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি আমার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করি, আমি কারও স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আমি কারও পক্ষে-বিপক্ষে নই, আমার অবস্থান স্পষ্ট। আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। পরবর্তীকালে লক্ষ্য করলাম সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির একাংশের কতিপয় নেতাকর্মী একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি নানাদিক থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। তাই আমার অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আমার বলা। আমি বলতে চাই যারা প্রচারণা চালিয়েছে তারা আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। তারা জেলা জাতীয় পার্টি এবং কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নির্দেশ গ্রহণ করেনি। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জাতীয় পার্টিও গণতান্ত্রিক দল সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার ভূমিকা স্পষ্ট করতে চাই। আমি মনে করি বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি উভয় দলই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ, উদার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। নীতি এবং আদর্শের দিক থেকে উভয় দলের মিল আছে। তাই বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থীকে ভোট দেয়া আমার দলের পক্ষে উচিত বলে মনে করি।


তিনি বলেন, আমি আরও বলতে চাই, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের জন্য যখন রাজপথে আন্দোলন চলছিল এবং নানা ধরনের প্রচেষ্টা চলছিল তখন বিএনপি’র ভূমিকা ছিল জাতীয় পার্টির পক্ষে।


এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল ফোন।


জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাসানী বলেন, আমার এখন গুরুতরভাবে সন্দেহ হচ্ছে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারের ভয় বা অন্য কোনো ভীতির মুখে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য দেয়ার সময় আশপাশে দলের কেউ, এমনকি কোনো লোকজন, পরিবারের কেউ ছিল না। সে কোন অবস্থায় আছে বোধগম্য নয়। গোপন আঁতাতের কারণেও তিনি এরকম করতে পারেন। রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে দলের মহাসচিব শামীম পাটোয়ারী তাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন মোবাইলের সেই কল রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনান ভাসানী।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com