
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ঘাটতি রাখেনি কোন প্রার্থী। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই হবেন জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসনে উপজেলা রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে সদর উপজেলার আংশিক ও জীবননগর এবং দামুড়হুদা। জীবননগর ও দর্শনা দুটি পৌরসভা রয়েছে। ইউনিয়ন রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় চারটি এবং জীবননগর ও দামুড়হুদায় আটটি করে ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯২ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭১৬ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন চারজন।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বাবু, জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে হাসানুজ্জামান সজীব। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার ভোটের মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। আসনটি বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হলেও আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছেন।
নিকট অতীতের নির্বাচনগুলোতে ৩০ শতাংশ ভোট গেছে আওয়ামী লীগের বাক্সে। তবে এবার ভোটের লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। যার ফলে আওয়ামী লোগের ভোটে নজর দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক জয়-পরাজনের ব্যবধান গড়ে দেবে। এ কারণে প্রার্থীরা ওই ভোটের আশায় সময় খরচ করছেন বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই জামায়াত বেশ কৌশলে পথ হাঁটা শুরু করে। এ আসনে পুরুষ ভোটার আর নারী ভোটার প্রায় সমান। বেশির ভাগ আওয়ামী নারী ভোটারকে দলে ভিড়িয়ে জামায়াত নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছে। সে তুলনায় বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের ভোটে নজর দিয়েছে দলটি।
আওয়ামী শাসনামলে দলীয় মিছল-মিটিংয়ে যারা সামনে থাকতেন তারাও এখন বিএনপির মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। যে সব নেতাকর্মী জেলে ছিলেন তারা কৌশলে জামিন নিয়ে চেষ্টা করছেন ধানের শীষের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে। তবে এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে চাইছেন না বিএনপির স্থানীয় কোনো নেতাকর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিতর্কিত নেতাদের অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। তবে দলীয় কর্মী-সমর্থকের বেশিরভাগই এলাকায় আছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক রয়েছে–নÑ এটা সব দলই স্বীকার করবে। সেই ভোট টানতে সব প্রার্থীর পক্ষ থেকেই চেষ্টা চলছে।
এক জামায়াত নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের একটা বড় সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছেন এ আসনে। যে কারণে এবারের নির্বাচনে সেই ভোটের দিকে সব প্রার্থীরই নজর রয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, আওয়ামী লীগ ভোটের লড়াইয়ে না থাকলেও তাদের ভোটেই জয় পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেবে। এ কারণে প্রার্থীরা নিজ নিজ কৌশল কাজে লাগাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বন্ধন গড়ে তোলা এবং ভোটারদের নৈতিক ও রাজনৈতিক আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন তারা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]