
নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। রমজান মাস ও চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, রমজান মাস ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ও পরের দিন শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আমাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখছি। এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা মহোদয় আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবারের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত না এলে রবিবার থেকে আবার কর্মসূচি চালু হবে।
সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, উপদেষ্টা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর থেকে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত ধরা যায়।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রথমে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে শুরু হলেও পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মসূচি চলতে থাকে।
শনিবার থেকে তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর মঙ্গলবার থেকে টানা কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে আসেন। বন্দরের চার নম্বর গেটের বাইরে তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে তিনি সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, বুধবার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তাদের কাছে যে দাবিগুলো উপস্থাপন করেছি, আজ উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছেও একই দাবি জানিয়েছি। তিনি আমাদের বলেছেন বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।
ইব্রাহীম খোকন বলেন, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। উপদেষ্টা বলেছেন, এককভাবে এ সিদ্ধান্ত বদলানোর ক্ষমতা তার নেই, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত জানাবেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন বলেন তিনি।
দুই দিনের এই বিরতির মধ্যে সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত এলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যথায় রবিবার থেকে আবারও কর্মবিরতি শুরু হওয়ার আভাস দিয়েছেন তারা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]