
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কার্যত অচল করে রেখে ব্যক্তিগত ইচ্ছামতো সেবা পরিচালনা করছেন বলে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং ইউনিয়ন পরিষদ যেন সেবাকেন্দ্রের বদলে ভোগান্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চিলমারী ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম মন্ডল নির্ধারিত কার্যালয় কড়াই বরিশালে বসছেন না। তিমি ইউনিয়নের কাজ চালাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের থানাহাট ইউনিয়নে অবস্থিত বাসা থেকে। ফলে ওই ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নদী পার হয়ে সেখানে যেতে হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধনের জন্য ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে ১৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
ঢুষমারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি ফি ৫০ টাকা হলেও এই কর্মকর্তা তা মানছেন না। অবশেষে আমি ১৫০ টাকা দিয়ে আমি আমার বোনের জন্ম নিবন্ধন করেছি।
চিলমারী ইউনিয়নের দিনমজুর আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কামলা দিয়ে খাই। জন্ম নিবন্ধনের জন্য থানারহাট যেতে হয়। নদী পার হতে গেলে পুরো দিনটাই নষ্ট হয়, ফলে ওই দিন আমার কামলাটাই হারাই।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ, নারী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নৌকা পাড়ি দিয়ে যেতে গিয়ে সময়, অর্থ ও নিরাপত্তা—সবই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
চিলমারী ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে থানাহাটে বসে কাজ করি। মাঝে মাঝে ইউনিয়ন পরিষদেও যাই। কেউ খুশি হয়ে বেশি দিলে নিই, না দিলে নেই না।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্ধারিত কার্যালয়ে বসতে বাধ্য। অন্যত্র বসে কার্যক্রম চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ মিললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বিবার্তা/রাফি/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]