শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, দুর্ভোগে দরিদ্র মানুষ
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৩
শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, দুর্ভোগে দরিদ্র মানুষ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাঞ্চলে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের মানুষ খড় ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। শীতের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। দারিদ্র্য, পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাব এবং প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় এসব এলাকার মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।


কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা ফসলের মাঠে কাজ করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন। দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমজীবীরাও জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে শীতের তীব্রতা বেশি থাকছে। এর সঙ্গে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা গ্রামের আজাদ হোসেন জানায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এলাকায় কনকনে ঠান্ডা বিরাজ করছে। শীত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে যাবে। খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করে আর কতদিন টিকে থাকা যায়?”
তিনি আরও বলেন, “ফসলের জমিতে একেবারেই কাজ করতে পারছি না। এক ঘণ্টাও টিকে থাকা যাচ্ছে না। ঠান্ডার কারণে কৃষিকাজ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।


লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের আমিনা বেওয়া জানায়, ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে রাত ও সকাল অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “ক্ষুধা আর এই কনকনে ঠান্ডা একসঙ্গে সহ্য করা যায় না। প্রয়োজন মতো গরম কাপড় নেই। তাই সকাল ও রাতে বাড়িতে খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করছি।”


হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক আজিজুল হক জানান, ঠান্ডা উপেক্ষা করেই তাঁকে ফসলের মাঠে কাজ করতে হয়, তবে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হয় না।


তিনি বলেন, “কনকনে ঠান্ডা ভীষণ কষ্ট দেয়। কাজ করতে বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু দারিদ্র্য আমাকে বাধ্য করে। অনেক সময় মাঠেই খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে হয়।


চর গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানায়, শৈত্যপ্রবাহে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।তিনি বলেন, “মাঠে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না বলে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। এক ঘণ্টা থাকলেই খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে হয়। শীত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।


রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি, গাইবান্ধায় ১১ ডিগ্রি এবং ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় পুরো অঞ্চল ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল এবং সূর্যের দেখা মেলেনি।


রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জানুয়ারি মাসজুড়ে এমন আবহাওয়া থাকতে পারে। মাঝেমধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ খুব একটা থাকবে না।


তিনি আরও জানান, হিমালয় পর্বতের নিকটবর্তী হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com