
মাঝে একদিনের বিরতি শেষে গত কয়েকদিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। একদিনের ব্যবধানে জেলার তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় ও ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো যথাক্রমে ৯৩ ও ৯৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার জনপদ।
হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের। গত কয়েকদিন ধরে দেখা মিলছেনা সূর্যের।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
শহরে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, এই শীতে ভোরে দাঁড়িয়েই হাত-পা অবস হয়ে যায়। কাজ থাকুক বা না থাকুক, বের হতেই হয়। কাজ না পেলে পরিবার না খেয়ে থাকবে।
রিকশাচালক মো. লাল মিয়া বলেন, এই ঠান্ডায় যাত্রী কমে গেছে। সকালে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। সারাদিন ঘুরেও আগের মতো আয় হচ্ছে না। শীত লাগলেও কিছু করার নেই। পরিবারকে তো খাওয়াতে হবে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তাহ জুড়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬.১ থেকে ৮ হলে তা মাঝারি, তাপমাত্রা ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
বিবার্তা/আসিম/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]