
ম্যাচ শেষে গ্যালারির দিকে মুখ করে বক্সের ভেতর বসে গেলেন নরওয়ে দলের কোচিং স্টাফসহ সবাই। সামনে গোলপোস্টের কাছে মার্টিন ওডেগোর। নরওয়ে অধিনায়কের সামনে রাখা একটি ড্রাম। সেই ড্রামে তিনি ঝংকার তুললেন। ছন্দের তালে নৌকা চালানোর মতো করে অঙ্গভঙ্গি করলেন সামনে বসে থাকা দলের সবাই। ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ (বৈদ্যুতিক নৌকা বাইচ) উদযাপনে তারা স্মরণীয় করে রাখলেন মুহূর্তটি।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে এসে প্রথম দুই ম্যাচেই নিশ্চিত হয়ে গেল নকআউট পর্ব। উদযাপনটা এরকম বিশেষ কিছুই তো হওয়ার কথা!
বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল নরওয়ে।
লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলের দিনে তাদের পথ অনুসরণ করলেন সময়ের আরেক তারকা আর্লিং হলান্ডও। প্রথম বিশ্বকাপে এসে দুই ম্যাচে চার গোল হয়ে গেল তার।
নরওয়ের সমর্থনে এই ম্যাচের গ্যালারি পরিণত হয়েছিল লাল সমুদ্রে। নরওয়ের এই সমর্থকেরা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাদের গণ ‘নৌকা বাইচের’ দিয়ে নিউ ইয়র্কবাসীদের বিনোদন দিয়ে আসছেন। ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশিরভাগ সেনেগালিজ দর্শক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি। গ্যালারিতে তাদের সমর্থকের সংখ্যাও অনেক কম ছিল।
বিকেলে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে ঘরে থাকার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে আসা বেশিরভাগ সমর্থকই খোলা স্টেডিয়ামে পঞ্চো পরেছিলেন, যদিও খেলা শুরু হওয়ার পর বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে। শুরু হয় ফুটবলের রোমাঞ্চ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দুই দলকে ‘ডাক হর্স’ বলেছিলেন অনেকেই। যেমনটি আশা ছিল এই লড়াই ঘিরে, তেমন উত্তেজনাই ছিল ম্যাচজুড়ে।
নিউ জার্সির ভেজা সন্ধ্যায় বিশ্বকাপে আফ্রিকার সেরা আশা হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত সেনেগাল দারুণভাবে শুরু করলেও, তাদের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নরওয়ের আক্রমণ, বিশেষ করে হলান্ডকে আটকাতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে সেনেগালের প্রথম ম্যাচের মতোই। আফ্রিকান দলটি প্রথম আধ ঘণ্টা ধরে দারুণভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিপক্ষকে হতাশ করে এবং হলান্ডকে বল থেকে দূরে রাখে।
তবে বিরতির কাছাকাছি সময়ে সেনেগালের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। নরওয়ের প্রথম গোলটি করেন মার্কাস পেদারসেন, যিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া হুলিয়ান রাইয়ারসনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। সেনেগালের অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি একটি ক্লিয়ারেন্স বুঝতে ভুল করেন এবং গোলরক্ষক এদুয়াঁ মঁদি আটকাতে পারেননি পেদারসনের শট।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নরওয়ে দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায়। ওডেগোরের একটি চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে হলান্ড জোরাল শটে বল জড়িয়ে দেন। ওডেগোর এর আগে নিজেই একটি সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। দশ মিনিট পর, হলান্ড আবারও গোল করেন। এবার ক্রসবারে লেগে বল জালে জড়ায়।
রক্ষণভাগের অসংখ্য ভুল সত্ত্বেও, পাল্টা আক্রমণে সেনেগালকে মাঝে মাঝে বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল। ইসমাইলা সার দুটি গোল শোধ করেন, যার মধ্যে একটি ছিল অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।
এই গ্রুপ থেকে সেনেগাল ও ইরাককে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সও। এবারের আসরে প্রথম একটি গ্রুপ থেকে দুটি দল পরের পর্ব নিশ্চিত করে ফেলল।
সেনেগালের আশা শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে কোনোমতে পরের পর্বে যেতে পারে তারা। নরওয়ে ও ফ্রান্সের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপের শীর্ষস্থান।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]