
নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা শর্ত সাপেক্ষে বৈধ। যদিও এটি বেশি বেশি করা উত্তম নয়। এটি হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ (রহ.)-এর একটি মত। [আল-বাহরুর রায়িক, ইবনু নুজাইম (রহ.), খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১০; হাশিয়াতু ইবনু আবিদিন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪২] তবে কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত আদব-শিষ্টাচার, যেমন—বিলাপ না করা, অশালীনতা এড়ানো এবং ফিতনার আশঙ্কা না থাকা—এসব বিষয়ও বিবেচ্য।
মূল কথা হলো, নারীদের জন্য কিছু শর্ত সাপেক্ষে কবর জিয়ারত করা জায়েজ। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াই উত্তম।
কখনো গেলে নিম্নোক্ত শর্তাদির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি, বিলাপ ইত্যাদি করতে পারবে না।
২. পূর্ণ পর্দার সঙ্গে বের হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে।
কোনো প্রকারের গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে যাবে না।
নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হওয়ার বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) আছে। কেননা নারীদের কবর জিয়ারত তাদের অতিরিক্ত অস্থিরতা, বিলাপ ও মাতমের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে দুর্বলতা ও অধিক শোকপ্রবণতা এবং ধৈর্যের স্বল্পতা আছে। তা ছাড়া তাদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তি কষ্ট পেতে পারে এবং তাদের কণ্ঠস্বর ও অবয়বের কারণে পুরুষদের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা আছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর জিয়ারতকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৬; ইবন মাজাহ, হাদিস : ১৫৭৬)
একবার মহানবী (সা.) এক নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তখন তিনি তাকে বললেন : ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।’ (বুখারি, হাদিস : ১২৮৩)
অর্থাৎ প্রথম হাদিসে নারীদের কবর জিয়ারত সম্পর্কে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আর দ্বিতীয় হাদিসে দেখা যায়, নবী (সা.) কবরের পাশে থাকা ও কান্না করার কারণে ওই নারীকে কবর থেকে চলে যেতে বলেননি; বরং তাকে আল্লাহভীতি ও ধৈর্যের নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য কিছু আলেম প্রথম হাদিসের নিষেধাজ্ঞাকে হারামের পরিবর্তে মাকরুহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে নারীদের কবর জিয়ারতের বৈধতা বোঝা যায় কিছু হাদিস থেকে। যেমন—বুরাইদাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৭)
এ হাদিসের সাধারণ বক্তব্যের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়েই অন্তর্ভুক্ত।
অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী (সা.) তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করলেন। তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। এরপর তিনি বললেন, ‘আমি আমার রবের কাছে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর আমি তাঁর কবর জিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম, তখন আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতএব, তোমরা কবর জিয়ারত করো; কারণ তা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৬)
এই দুই হাদিস থেকে নারীদের কবর জিয়ারতের অনুমোদনের পক্ষে দলিল গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘তোমরা কবর জিয়ারত করো’—এই নির্দেশ সাধারণ; এতে শুধু পুরুষদের জন্য সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়নি। তাই কিছু আলেমের মতে নারীরাও এই সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।
মূল কথা হলো, নারীদের কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে বৈধতা ও অবৈধতার হাদিসগুলো সূত্র ধরে আলেমরা শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হওয়ার কথা বলেছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]