
ইসলাম ধর্মে অন্যকে উপকার করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুরো জীবনটাই অন্যের উপকারে সঁপে দিয়েছেন। নবীর প্রেমিক মুমিনরা যারা আল্লাহকে ভয় করে তার সর্বসময় অন্যের উপকারে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে এটাই স্বাভাবিক।
মহান আল্লাহ বলেন, সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তিদাতা। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২)
আমরা সমাজে বসবাস করি। আমাদের পাশে প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সাধ্যানুযায়ী খোঁজ-খবর রখারা জরুরি। এদের মধ্যে কেউ বিপদে পরলে তাদের উপকারে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে। কিন্তু আজ আমরা অন্যের বিপদে পাশ কাটিয়ে চলে যাই। হাসি তামাসা বা তার বিপদে মজা নিতে থাকি।
একটি উদাহরণ দিলে সহজে বুঝা যাবে, কেউ বিপদে পরে তার নিকট থাকা গচ্ছিত পণ্য বিক্রি করতে চাইলে আমরা পণ্যটির দাম নির্দিষ্ট দাম থেকে কমিয়ে দেই। কেননা সে বিপদে পড়ছে বিক্রি না করে কোথায় যাবে। অবশেষে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কম দামেই তার পণ্যটি বিক্রি করে দেয়। এই হলো আমাদের সমাজের নিষ্ঠুরতা। অথচ অপরের সমস্যার সমাধান করে দেয়া মুমিনের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।
উপকারের পাশাপাশি অন্যায় থেকেও অন্যদের বাঁচাতে হবে। মাদক, ধর্ষণ, যৌতুকসহ সমাজের সকল অপকর্ম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে অন্যদের নিষেধ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, তোমরাই সর্বোৎকৃষ্ট উম্মত। তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করো। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১০)
আমাদেরকে অন্যের উপকারে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যের উপকার করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত পাওয়া যাবে। আমাদের স্বরণ রাখা উচিত, আমি যদি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে উপকার করি তাহলে আমি কখনো বিপদে পরলেও অন্যরা আমাকে উপকার করবে। তাই আসুন, উপকার করতে না পারলেও বাকী জীবনে অন্যের ক্ষতি নয়, নিজেকে উপকারে ব্যস্ত রাখি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]