
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আজ সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা জানাবেন। এতে এতে লাখ লাখ ভক্ত ও অনুরাগীর উপস্থিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। উপস্থিতির দিক থেকে খামেনির জানাজা ইরানের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরান।
শনিবার (৪ জুলাই) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভক্ত ও অনুরাগীদের বিপুল অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা সকাল ৬টায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
মেহের নিউজ জানিয়েছে, তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে রওনা হয়েছেন। তারা রাস্তায় এবং দাফন অনুষ্ঠান শুরুর জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। ইমাম খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রথম প্রহরেই ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে উপস্থিত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
সাত দিনব্যাপী দাফনের আনুষ্ঠানিকতা
খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পণ্ডিতরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মরদেহসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহৎ প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।
ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
নজফে অবস্থিত ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি রয়েছে।
কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তাঁর সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।
এরপর মরদেহটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত।
শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]